ঠাকুরগাঁও-১ (সদর, রুহিয়া ও ভূল্লী) আসনের উপনির্বাচনে আজ বৃহস্পতিবার সকাল আটটা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। এই নির্বাচনী কার্যক্রম বিকেল চারটা পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

নির্বাচন প্রক্রিয়া সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে গতকাল বুধবার দুপুর থেকেই বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে প্রয়োজনীয় নির্বাচনী সরঞ্জাম পাঠানো শুরু করা হয়। একই সাথে ভোটকেন্দ্র ও আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই উপনির্বাচনে মোতায়েন করা হয়েছে ২১ প্লাটুন বিজিবি, ২ হাজার ২৭২ জন পুলিশ সদস্য এবং ২ হাজার ৪০৫ জন আনসার সদস্য। এছাড়া নির্বাচনী কার্যক্রম তদারকিতে মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন বিচারিক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং নির্বাচন অনুসন্ধান কমিটির সদস্যরা। পুরো প্রক্রিয়াটি পর্যবেক্ষণ করতে চারজন বিদেশি পর্যবেক্ষকসহ মোট ১৭৭ জন দেশি-স্থানীয় পর্যবেক্ষক উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের মোট ভোটারের সংখ্যা ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫৭ হাজার ৪৬৮ জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ৫৮ হাজার ৬৬৬ জন। এছাড়া এই আসনে ৪ জন হিজড়া ভোটার রয়েছেন।

নির্বাচন কার্যক্রমের প্রস্তুতি সম্পর্কে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, “মোট ১৮৫টি ভোটকেন্দ্রে থাকা ৯৮৯টি ভোটকক্ষে ভোট দিতে পারবেন ভোটাররা। প্রতিটি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণের প্রস্তুতির পাশাপাশি নিরাপত্তার জন্য সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই প্রতিটি কেন্দ্রে ভোট গণনা শুরু হবে। গণনা শেষে কেন্দ্রেই ফলাফল ঘোষণা করা হবে।”

তিনি আরও জানান, ভোটের ফলাফল সংগ্রহ ও পরিবেশনের জন্য জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে একটি বিশেষ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। ভোটকেন্দ্রগুলো থেকে গণনার ফলাফল সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সেখানে পাঠানো হবে।

উল্লেখ্য, সর্বশেষ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন বর্তমান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করে শপথ নেওয়ায় এই আসনটি শূন্য হয়। পরবর্তীতে ১০ সেপ্টেম্বর এই আসনের উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

এই উপনির্বাচনে মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁরা হলেন— রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ভাই ও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীন (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি দেলাওয়ার হোসেন (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের খাদেমুল ইসলাম (হাতপাখা), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আব্দুল আলীম নিজামী (বটগাছ) এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক (ডাব)।