চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নে এক ব্যক্তির পৈতৃক বসতভিটার ওপর দিয়ে জোরপূর্বক সড়ক নির্মাণ এবং চাঁদা আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন যুবদলের সদস্যসচিব জাকারিয়া তসলিমের বিরুদ্ধে। নিজেদের পৈতৃক সম্পত্তির অধিকার রক্ষায় এবং এই অন্যায়ের প্রতিকার পেতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে ভুক্তভোগী তালুকদার পরিবার।

গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) চট্টগ্রামের একটি রেস্তোরাঁয় তালুকদার পরিবারের পক্ষ থেকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়। উক্ত সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে পরিবারের দাবি উপস্থাপন করেন মাস্টার জাফরুল হক তালুকদার।

লিখিত বক্তব্যে জাফরুল হক তালুকদার উল্লেখ করেন, মুছাপুর ইউনিয়নে তাদের পরিবার দীর্ঘ বংশপরম্পরায় পৈতৃক সম্পত্তি ভোগদখল করে আসছে। তবে অভিযোগ উঠেছে যে, গত দুই বছর ধরে প্রতিবেশী জাকারিয়া তসলিম তাদের বসতভিটার মাঝখান দিয়ে জোর করে সড়ক নির্মাণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

জাফরুল হকের দাবি অনুযায়ী, এই সড়ক নির্মাণে বাধা দেওয়ায় পরিবারের সদস্য গিয়াস উদ্দিন তালুকদারকে চরম হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। এমনকি তাকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে তার বিরুদ্ধে একটি ফৌজদারি মামলা করা হয়েছে বলেও তিনি জানান। এর পাশাপাশি অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তালুকদার বাড়িতে হামলা চালানো এবং পরিবারের সদস্যদের নিয়মিত হুমকি দেওয়ার অভিযোগও তোলা হয় সংবাদ সম্মেলনে।

জাফরুল হক আরও বলেন, তাদের জমির ওপর দিয়ে আগে জনসাধারণের চলাচলের কোনো রাস্তা ছিল না। বাড়ির পশ্চিম পাশে সোলায়মান সড়ক এবং উত্তর পাশে চলাচলের রাস্তা বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও জোরপূর্বক সড়ক নির্মাণের চেষ্টা চলছে। তিনি অভিযোগ করেন, এই বিষয়ে উপজেলা বিএনপির নেতাদের এবং থানা প্রশাসনকে অবহিত করা হলেও তারা এখন পর্যন্ত প্রত্যাশিত কোনো প্রতিকার পাননি।

সংবাদ সম্মেলনে কেবল জমি দখলের অভিযোগই নয়, বরং বাংলাবাজার ও গাছতলীর হাট-ঘাট এলাকায় এক মাছ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে আনুমানিক সাত থেকে আট লাখ টাকার মাছ ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও উত্থাপন করা হয়। লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, পরবর্তীতে উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আলমগীর ঠাকুর ও যুবদলের আহ্বায়ক নিঝুম খানের মধ্যস্থতায় জরিমানা প্রদানের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছিল।

এছাড়া গত ২১ অক্টোবর মুছাপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কেরানী মার্কেট এলাকায় ব্যবসায়ী সাহাব উদ্দিনের ওপর হামলার ঘটনায় জাকারিয়া তসলিম ও তার অনুসারীদের দায়ী করা হয়। এই হামলায় গুরুতর আহত সাহাব উদ্দিন বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। এসব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রেক্ষিতে প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ ও হস্তক্ষেপ কামনা করেন জাফরুল হক তালুকদার।

উক্ত সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সাইফুল মূলক শিপন, আলমগীর তালুকদার, মুহাম্মদ শোয়াইব উদ্দিন হায়দার, মো. সাইমুন, আইনজীবী আরাফাত হাসান, ইমতিয়াজ উদ্দিন, রাশেদুল মূলক, আলমগীর হক তালুকদার এবং আইনজীবী হেলাল মুজিব।

এদিকে, এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জাকারিয়া তসলিম দাবি করেন, ওই জায়গাটি সরকারি। এটি কোনো ব্যক্তি বা পরিবারের ব্যক্তিগত জায়গা নয়।