খুলনা নগরীর আহসান আহমেদ রোডের পিটিআই মোড় সংলগ্ন চাইনিজ প্যালেস রেস্টুরেন্টে একদল যুবকের দ্বারা হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশের প্রাথমিক তথ্যানুসারে, রেস্টুরেন্টে ফোন করা হলে তা রিসিভ না করার বিষয়টি কেন্দ্র করেই এই অরাজক কর্মকাণ্ড চালানো হয়েছে।

গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে এই অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটে। তবে ভাঙচুরের এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ আহত হননি বলে জানা গেছে।

রেস্টুরেন্টের কর্মচারীদের দেওয়া বিবরণ অনুযায়ী, চার-পাঁচজন যুবক হঠাৎ সেখানে প্রবেশ করে এবং চেয়ার ছুড়ে মারার পাশাপাশি লাথি মেরে সামনের কাচগুলো ভেঙে ফেলে। তারা রেস্টুরেন্টের ভেতরে থাকা আসবাবপত্রগুলোও এলোমেলো করে দেয়। এরপর দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে ওই যুবকরা।

রেস্টুরেন্টের এক কর্মচারী বিস্তারিত জানিয়ে বলেন, ঘটনার সময় কয়েকজন যুবক এসে চাইনিজ প্যালেসের অবস্থান জানতে চান। তাদের রেস্টুরেন্টটি দেখিয়ে দেওয়ার পরপরই তারা আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন এবং ভাঙচুর শুরু করেন। তারা সামনের দিকে থাকা চেয়ার ছুড়ে মারার পাশাপাশি লাথি দিয়ে কাচ ভেঙে ফেলেন।

হামলাটি ঠিক কী কারণে চালানো হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেননি রেস্টুরেন্টের কর্মচারীরা। হামলাকারীদের পরিচয় এবং রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাদের আগে থেকে কোনো বিরোধ ছিল কি না, সে বিষয়েও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

কর্মচারীরা আরও জানান, ঘটনার পর প্রশাসনের প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। রেস্টুরেন্টের সিসি ক্যামেরার ফুটেজে চারজন যুবককে ভাঙচুর করতে দেখা গেছে। ওই ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ধারণা করা হচ্ছে, হামলাকারী যুবকদের বয়স আনুমানিক ২২ থেকে ২৪ বছরের মধ্যে।

খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লোকমান হোসেন এই বিষয়ে জানান, “চাইনিজ প্যালেস রেস্টুরেন্টে ফোন করলে কল রিসিভ করা হয় না—এ বিষয়কে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। কয়েকজন বখাটে যুবক এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।”

উল্লেখ্য যে, এর আগে খুলনা নগরীর সন্ধানী ক্লিনিকেও হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছিল। একের পর এক প্রতিষ্ঠানে এমন হামলার ঘটনায় নগরীর ব্যবসায়ী মহলে নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।