খুলনায় একদিনের ব্যবধানে গুলি, হামলা এবং ভাঙচুরের তিনটি পৃথক ঘটনায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। গতকাল শনিবার সকালে তেরখাদা উপজেলায় যুবদলের এক নেতা গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর, সন্ধ্যায় নগরের দক্ষিণ টুটপাড়ায় এক মুদিদোকানিকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। আর রাতের অন্ধকারে নগরের বাবু খান রোডে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে মুখোশধারী একদল দুর্বৃত্ত। এলাকাটিতে আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে দিতে ক্লিনিক থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় তারা বাইরে একটি ফাঁকা গুলি ছোড়ে।

গতকাল রাত সোয়া ৯টার দিকে নগরের বাবু খান রোডে খুলনা আযম খান সরকারি কমার্স কলেজের বিপরীতে অবস্থিত সন্ধানী ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক কমপ্লেক্সে এই হামলাটি চালানো হয়। মুখোশ পরিহিত ৮ থেকে ১০ জনের একটি দল আকস্মিকভাবে ক্লিনিকে ঢুকে পড়ে এবং ব্যাপক ভাঙচুর শুরু করে। এই অরাজক পরিস্থিতির কারণে ক্লিনিকের একজন কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। পাশাপাশি ক্লিনিকের রিপোর্ট প্রদানকারী এক কর্মীর মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

ক্লিনিকের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, রাত ৯টা ১৩ মিনিটের দিকে মুখোশধারী ৮-১০ জন ব্যক্তি ক্লিনিকে প্রবেশ করেন। তারা কাউন্টারের সামনে থাকা স্টিলের অস্থায়ী নিরাপত্তাবেষ্টনীটি তুলে ফেলে এবং তা দিয়ে কাচ ভাঙতে শুরু করেন। এই আকস্মিক হামলায় চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা আতঙ্কিত হয়ে দ্রুত ক্লিনিক থেকে বেরিয়ে যান। এরপর দুর্বৃত্তরা ক্লিনিকের চেয়ারসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে তছনছ করে দেয়।

ভাঙচুর শেষ করে ক্লিনিক থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় বাইরে থাকা সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানোর উদ্দেশ্যে একটি ফাঁকা গুলি ছোড়ে দুর্বৃত্তরা। এরপর তারা বাবু খান রোড দিয়ে পায়ে হেঁটে এলাকা ত্যাগ করে বলে জানা গেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হামলাকারীরা প্রথমে প্রবেশপথে অবস্থিত দুই চিকিৎসকের চেম্বারের সামনের কাচগুলো ভেঙে ফেলে। এরপর তারা ভেতরে ঢুকে চেয়ার-টেবিল এবং ক্যাশ কাউন্টারের সামনের কাচগুলো ভাঙচুর করে। হামলার সময় চিকিৎসকেরা নিজেদের জীবন বাঁচাতে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যান। ভাঙচুর শেষে ক্লিনিক থেকে বেরিয়ে বাইরে থাকা লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াতে একটি ফাঁকা গুলি ছোড়ে দুর্বৃত্তরা। পরে তারা বাবু খান রোড দিয়ে পায়ে হেঁটে চলে যায়।

ক্লিনিকের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘রাতে স্বাভাবিকভাবে কাজ করছিলাম। সোয়া ৯টার দিকে কয়েকজন ব্যক্তি ভাঙচুর করতে করতে ক্যাশ কাউন্টারের সামনে আসেন। তাঁরা ভাঙচুর শুরু করলে আমরা বাইরে বের হয়ে যাই। তাঁরা চলে যাওয়ার পর আবার ভেতরে আসি। এর বাইরে আর কিছু জানি না।’

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (খুলনা অঞ্চল) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনার পর থেকে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তেমন সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না। তবে তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং পুলিশ সম্ভাব্য সব দিক খতিয়ে দেখছে।

অন্যদিকে, গতকাল সন্ধ্যায় নগরের দক্ষিণ টুটপাড়া গাছতলা এলাকায় ধনঞ্জয় কুণ্ডু ওরফে আকাশ কুণ্ডু (৪৫) নামের এক মুদিদোকানিকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। তিনি নিজের দোকানে বসে থাকা অবস্থায় এই হামলার শিকার হন। এর আগে শনিবার সকালে তেরখাদা উপজেলায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে আহত হন যুবদলের নেতা রামিম বিশ্বাস (৩২)। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রামিম বিশ্বাস তেরখাদা উপজেলার ৬ নম্বর মধুপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি।