আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী মুক্তি পাওয়ার পর জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার সোনাপুর গ্রামে অবস্থিত শ্বশুরবাড়িতে ফিরে গেছেন বগুড়ার আলোচিত পুলিশ কন্যা তাসনিয়া রানা তামান্না।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তামান্না বর্তমানে তার শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করছেন।

ঘটনার সূত্রপাত গত সোমবার (২৬ অক্টোবর), যখন বগুড়ার আদালত চত্বর থেকে তামান্নাকে উদ্ধার করে সদর থানা-পুলিশ নিরাপত্তা হেফাজতে নেয়। পরবর্তীতে আদালতের আদেশে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। তবে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে বের হওয়ার সময় এক নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। জানা গেছে, তামান্নার বাবা ও মা সহ পরিবারের সদস্যরা তাকে জোর করে নিজেদের সঙ্গে নিয়ে যেতে চাইলে তামান্নার সঙ্গে তাদের ধস্তাধস্তি হয়।

তামান্নার বাবা সাময়িক বরখাস্ত পুলিশ কনস্টেবল মো. রানা মাসুদের অভিযোগ, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার পথে তার মেয়ে নিখোঁজ হয়ে যান। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ওই দিনই তিনি আদমদীঘি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। উক্ত মামলায় জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার সোনাপুর গ্রামের মো. শহিদ হোসেনসহ বেশ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছিল।

পরিবারের দাবি অনুযায়ী, গত ১ মে তামান্না শহিদ হোসেনের সঙ্গে চলে যান। এই ঘটনায় তার বাবা পুনরায় অপহরণের অভিযোগ উত্থাপন করেন। পরবর্তীতে গোয়েন্দা পুলিশ তামান্নাকে উদ্ধার করে আদালতে হাজির করে এবং তাকে রাজশাহীর একটি সেফ হোমে পাঠানো হয়।

তবে আদালতের শুনানিতে তামান্না স্পষ্টভাবে জানান যে, তাকে কেউ অপহরণ করেনি এবং তিনি সম্পূর্ণ নিজের ইচ্ছায় সেখানে গিয়েছিলেন। ১৮ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ায় আদালত তাকে নিজ জিম্মায় থাকার অনুমতি প্রদান করেন।

এই পুরো বিষয়টি সম্পর্কে বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইব্রাহীম আলী জানান, আদালত তামান্নাকে নিজ জিম্মায় থাকার অনুমতি দিয়েছেন। যেহেতু তিনি নিজের ইচ্ছায় চলে যেতে চেয়েছেন, তাই সোমবার রাতে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়-স্বজনরা তাকে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার সোনাপুর গ্রামে নিয়ে যান।

ওসি আরও জানান, গত ২৬ অক্টোবর তামান্নার ১৮ বছর পূর্ণ হয়। এরপর তাকে রাজশাহীর সেফ হোম থেকে বগুড়ার আদালতে আনা হয়। আদালতের কার্যক্রম চলাকালীন তার বাবা-মা তাকে নিজেদের জিম্মায় নেওয়ার জন্য আবেদন করেছিলেন। তবে আদালত সেই আবেদন নাকচ করে দিয়ে তামান্নাকে নিজ জিম্মায় থাকার অনুমতি প্রদান করেন।