ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বিশিষ্ট শিল্পপতি গৌতম আদানিকে কেন্দ্র করে নির্মিত একটি বিতর্কিত প্রামাণ্যচিত্র প্রকাশ ও শেয়ার করার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। আদালতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।

‘দ্য ফ্রেন্ডশিপ ফাইলস: হাউ মোদি অ্যান্ড আদানি স্টোল ইন্ডিয়া’ শীর্ষক ৩৬ মিনিটের এই ভিডিওচিত্রটি নিয়ে গৌতম আদানির প্রতিষ্ঠান ‘আদানি এন্টারপ্রাইজেস লিমিটেড’ ৫০ কোটি রুপির একটি মানহানির মামলা দায়ের করেছে। উল্লেখ্য, ইন্টারনেট প্রযুক্তি উদ্যোক্তা সাবির ভাটিয়ার ইউটিউব চ্যানেল এবং এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডলে গত ৯ অক্টোবর এই ভিডিওটি পোস্ট করা হয়েছিল।

সংশ্লিষ্ট ভিডিওচিত্রে সাবির ভাটিয়া বিভিন্নভাবে এই দাবি করার চেষ্টা করেছেন যে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যাবতীয় নিয়ম-নীতি লঙ্ঘন করে প্রভাবশালী শিল্পপতি গৌতম আদানিকে বিমানবন্দর ও সড়ক নির্মাণ থেকে শুরু করে কয়লাখনি এবং বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের সুযোগ করে দিয়েছেন এবং এর মাধ্যমে অর্থ আদায়ের পথ প্রশস্ত করেছেন।

মঙ্গলবার এই মামলার শুনানির সময় কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি আর্যক দত্ত মন্তব্য করেন, ভিডিওটি কোনো সাধারণ সংবাদ প্রতিবেদন নয়। এতে যেসব গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলোর স্বপক্ষে কোনো উপযুক্ত প্রমাণ নেই।

আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ভিডিওটি নাটকীয়ভাবে তৈরি একটি রূপক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রামাণ্যচিত্রের শিরোনামটি সরাসরি চুরি বা আত্মসাতের ইঙ্গিত দেয়। ভিডিওর ভেতরের তথ্য ও দৃশ্যগুলো এমনভাবে সাজানো হয়েছে যেন সেগুলোই চূড়ান্ত সত্য, কিন্তু এই দাবির সপক্ষে কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ ওই প্রামাণ্যচিত্রে প্রদর্শিত হয়নি। তবে আদালত একই সঙ্গে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, যথাযথ প্রমাণসহ গঠনমূলক সমালোচনা কিংবা সত্য প্রকাশে কোনো বাধা নেই।

বিচারপতি দত্ত আরও লক্ষ্য করেন যে, ভিডিওটি একবার মুছে ফেলার পর সাবির ভাটিয়া পুনরায় সেটি আপলোড করেছেন। তাঁর মতে, এই আচরণ প্রথম দর্শনেই সদ্ভাবের অভাব প্রকাশ করে। ইন্টারনেটে এ ধরনের কন্টেন্ট অত্যন্ত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, যার ফলে যে ধরনের সুনামহানি ঘটে তা কেবল আর্থিক ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে মেটানো সম্ভব নয়। এই পরিস্থিতি বিবেচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোকে সংশ্লিষ্ট ভিডিওটি মুছে ফেলতে এবং এর সব লিঙ্ক ও শেয়ার বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

একই সাথে ইউটিউব, এক্স এবং ইনস্টাগ্রাম কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা ওইসব অ্যাকাউন্টের আইপি অ্যাড্রেস এবং সাবস্ক্রাইবার সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য সংরক্ষণ করে। যেসব অ্যাকাউন্টের মালিকদের এখনও চিহ্নিত করা যায়নি, তাঁদের প্রাথমিক তথ্য আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে সিলমোহরযুক্ত খামে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৩১ জানুয়ারি।

আদালতের এই আদেশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন সাবির ভাটিয়া। তিনি লিখেছেন, “আদানি তাঁর ক্ষতির পরিমাণ ৫০ কোটি রুপি ধার্য করলেও তিনি নিজে এই সুনামের মূল্য শূন্য রুপি বলে মনে করেন।”

সাবির আরও দাবি করেন, অন্যায়ভাবে অর্জিত ধনসম্পদ কখনো সুনাম এনে দেয় না। তাঁর যুক্তি অনুযায়ী, “সুনামহানির মূল্য যদি শূন্য হয়, তবে ক্ষতিপূরণের পরিমাণও শূন্য হওয়াই উচিত।”