কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের বালুচরে অদ্ভুত এক দৃশ্য দেখা গেল বুধবার সকালে। প্লাস্টিকের বোতল, মগ, ছোট বালতি এবং বিভিন্ন ইলেকট্রনিক বর্জ্য দিয়ে নিজেদের শরীর ঢেকে ১২ জন মানুষ দৌড়ঝাঁপ করছেন। কারও শরীরে প্লাস্টিকের থালা, আবার কারও পুরো শরীরই ঢাকা পড়ে আছে বর্জ্যপণ্যে। এই অদ্ভুত সাজের মানুষদের ঘিরে ভিড় করেন নানা বয়সী পর্যটকেরা। কৌতূহলী দর্শকরা কেউ ছবি তুলছেন, আবার কেউ কেউ মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করছেন।
আজ বুধবার সকাল আটটার দিকে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে এই দৃশ্য পরিলক্ষিত হয়। মূলত সাগরদূষণ রোধে পর্যটকদের সচেতন করার উদ্দেশ্যেই এই ‘বর্জ্যমানব’ সাজানো হয়েছে। বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবীরা সমুদ্র সৈকত থেকে কুড়িয়ে আনা বিভিন্ন বর্জ্য ব্যবহার করেই নিজেদের এই বিশেষ সাজে সজ্জিত করেন।
প্লাস্টিক বর্জ্য ও পরিবেশদূষণের ভয়াবহতা সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে আজ সকালে কক্সবাজার সৈকতের লাবণী পয়েন্ট থেকে একটি শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। এই কর্মসূচিতে অংশ নেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, পরিবেশকর্মী এবং দুই শতাধিক শিক্ষার্থী। শোভাযাত্রার মূল আকর্ষণ ছিলেন সেই ১২ জন ‘বর্জ্যমানব’। তাঁরা সৈকতে দৌড়ানোর পাশাপাশি পর্যটকদের উদ্দেশ্যে উচ্চকণ্ঠে বলতে থাকেন ‘সৈকত আমাদের অমূল্য সম্পদ, সৈকতের সৌন্দর্য উপভোগ করুন, যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলবেন না, প্লাস্টিক ব্যবহারে সচেতন হোন’।
পুরো শোভাযাত্রার নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান। এই উদ্যোগের গুরুত্ব বর্ণনা করে তিনি বলেন, গত ১০ দিনে অন্তত ১০ লাখ পর্যটক কক্সবাজার ভ্রমণ করেছেন। এখনো লাখো পর্যটক এখানে অবস্থান করছেন। পর্যটকদের ব্যবহৃত প্লাস্টিক বর্জ্যের কারণে সমুদ্র দূষিত হচ্ছে। তাই প্লাস্টিক বর্জ্য না ফেলার জন্য এই প্রচারণা চালানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, শোভাযাত্রায় থাকা ১২ ‘বর্জ্যমানব’ পর্যটকদের উদ্দেশে সচেতনতামূলক বার্তা পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছেন।
বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের পরিচালক জামাল উদ্দিন এই উদ্যোগের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘সৈকত ভ্রমণে আসা মানুষজনের অনেকে বালুচরে ময়লা-আবর্জনা ফেলে রাখেন। বিশেষ করে প্লাস্টিক। এসব সমুদ্রের পানিতে ছড়িয়ে দূষণ সৃষ্টি করছে। বালুচরে ময়লা-আবর্জনা ফেলার জন্য অসংখ্য ডাস্টবিন রাখা হলেও অনেকের সেদিকে নজর থাকে না। প্লাস্টিক বর্জ্য পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর কতটা প্রভাব ফেলে, তা দেখাতে ১২ জন নারী-পুরুষ বর্জ্যমানব সেজেছেন।’
উল্লেখ্য যে, এর আগে ১২ অক্টোবর সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে বর্জ্য দিয়ে তৈরি ৫০ ফুট উচ্চতার একটি বিশাল ভাস্কর্য উদ্বোধন করা হয়েছিল। সেটিও নির্মাণ করেছে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন। প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক বালিয়াড়িতে দাঁড়িয়ে থাকা এই বর্জ্য ভাস্কর্যটি দেখছেন এবং পরিবেশ রক্ষায় সচেতন হচ্ছেন।