কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের বালিয়াড়িতে এখন মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে এক বিশাল দানব আকৃতির ভাস্কর্য। পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের বোতল দিয়ে তৈরি এই অদ্ভুত আকৃতির শিল্পকর্মটি পর্যটকদের মাঝে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। সৈকতে আসা দর্শনার্থীরা এই ভাস্কর্যের সামনে ভিড় করছেন; কেউ ছবি তুলছেন, আবার কেউ ভিডিও করে স্মৃতি ধরে রাখছেন।

গত বুধবার বিকেলে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে এই দৃশ্য দেখা যায়। প্লাস্টিক দূষণের ভয়াবহতা সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরি করতে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। উল্লেখ্য যে, সংগঠনটি সারা বছর কক্সবাজারে ‘প্লাস্টিক এক্সচেঞ্জ স্টোর’ পরিচালনা করে থাকে। সেখানে সাধারণ মানুষ পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের বিনিময়ে চাল, আটা, চিনি এবং ভোজ্যতেলের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহ করতে পারেন। ওই বিশেষ কর্মসূচি থেকে সংগৃহীত প্লাস্টিক বর্জ্যের একটি অংশ ব্যবহার করেই তৈরি করা হয়েছে এই ‘প্লাস্টিক দানব’ ভাস্কর্যটি।

গত ১২ অক্টোবর বিকেলে জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান আনুষ্ঠানিকভাবে এই ভাস্কর্য প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপার সাজেদুর রহমানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী চার মাস ধরে সৈকতে এই ভাস্কর্যটি প্রদর্শিত হবে। এর পাশাপাশি পর্যটন বিষয়ে সচেতনতামূলক চলচ্চিত্র প্রদর্শনের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। তবে চলচ্চিত্রটি দেখার জন্য প্রবেশমূল্য হিসেবে দর্শনার্থীদের সঙ্গে করে দুটি পরিত্যক্ত প্লাস্টিক বোতল নিয়ে আসতে হবে।

আয়োজকদের মতে, পর্যটক এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের ব্যবহৃত প্লাস্টিক কীভাবে সমুদ্রের নীল জলরাশিকে দূষিত করছে এবং এর দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতিকর প্রভাব কী, সেই বার্তা পৌঁছে দিতেই এই ‘প্লাস্টিক দানব’ তৈরি করা হয়েছে। চার মাসব্যাপী এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে কয়েক লাখ পর্যটক ও স্থানীয় মানুষের কাছে সমুদ্রদূষণের ভয়াবহতা তুলে ধরার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় মানুষকে আরও দায়িত্বশীল হতে উৎসাহিত করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য বলে জানান আয়োজকেরা।

এ বিষয়ে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের পরিচালক জামাল উদ্দিন বলেন, ‘আমরা প্রায়ই সমুদ্রের সৌন্দর্য উপভোগ করি, কিন্তু সেই সমুদ্রকে দূষিত করার পেছনে আমাদের নিজেদের ভূমিকার কথা ভুলে যাই। পরিত্যক্ত প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি এই দানব আসলে আমাদের অসচেতনতারই প্রতিচ্ছবি। আমরা চাই, মানুষ এই ভাস্কর্য দেখে শুধু ছবি তুলে চলে যাবে না; বরং নিজের ব্যবহৃত প্লাস্টিক কোথায় ফেলছে, সেটি সমুদ্রের জন্য কী ক্ষতি তৈরি করছে, সেই প্রশ্নটিও নিজের কাছে করবে।’

তিনি আরও মনে করিয়ে দেন যে, ‘আমরা প্রায়ই সমুদ্রের সৌন্দর্য উপভোগ করি, কিন্তু সেই সমুদ্রকে দূষিত করার পেছনে আমাদের নিজেদের ভূমিকার কথা ভুলে যাই। পরিত্যক্ত প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি এই দানব আসলে আমাদের অসচেতনতারই প্রতিচ্ছবি।’

ভাস্কর্যটি সম্পর্কে জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, সমুদ্র বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সম্পদ, জীববৈচিত্র্য ও অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু মানুষের অসচেতনতার কারণে প্লাস্টিক বর্জ্য সমুদ্র ও সৈকতের পরিবেশকে হুমকির মুখে ফেলছে। এ ধরনের উদ্যোগ দূষণের ভয়াবহতা মানুষের সামনে তুলে ধরবে। পাশাপাশি মানুষের আচরণ পরিবর্তনে উৎসাহিত করবে। কক্সবাজারকে পরিচ্ছন্ন রাখতে প্রশাসনের পাশাপাশি পর্যটক, স্থানীয় জনগণ, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।