ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ঢাকা টেস্টের প্রথম ম্যাচ থেকে ছিটকে গেছেন অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিম। অনুশীলনের সময় আঙুলে চোট পাওয়ায় এই ম্যাচে তার অংশগ্রহণ সম্ভব হচ্ছে না। তবে মুশফিকের শারীরিক অবস্থা নিয়ে স্বস্তির কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ দলের ফিজিও বায়েজিদুল ইসলাম খান। প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষায় গুরুতর কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি। ফিজিওর আশা, আগামী তিন দিনের মধ্যে মুশফিক পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠবেন। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী থাকলে ৫ নভেম্বর সিলেটে শুরু হতে যাওয়া সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তাকে দলে পাওয়া যাবে।
গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) মিরপুরের বিসিবি একাডেমি মাঠে অনুশীলনের সময় এই অনাকাঙ্ক্ষিত চোট পান মুশফিক। নেটে ব্যাটিং করার সময় একটি বাউন্সার তার ডান হাতের তর্জনি আঙুলে আঘাত করে। আঘাতের তীব্রতায় তিনি সঙ্গে সঙ্গে ব্যথায় বসে পড়েন। দ্রুতই ফিজিওর তত্ত্বাবধানে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেন তিনি। আঙুলে টেপ পেঁচিয়ে ড্রেসিংরুমে ফিরে যান অভিজ্ঞ এই ক্রিকেটার, এরপর আর ব্যাটিং অনুশীলনে অংশ নেননি তিনি।
চোট পাওয়ার পর থেকেই মুশফিকের খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। তবে প্রাথমিক পরীক্ষায় বড় কোনো সমস্যা না থাকায় তাকে দলে পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী ছিল টিম ম্যানেজমেন্ট। মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত তার অবস্থার উন্নতির অপেক্ষায় ছিলেন তারা। কিন্তু বুধবার সকালেও আঙুলের ব্যথা পুরোপুরি না কমায় শেষ পর্যন্ত তাকে ছাড়াই একাদশ সাজানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মুশফিকের চোটের সর্বশেষ অবস্থা জানিয়ে বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিসিবির দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় বাংলাদেশ দলের ফিজিও বায়েজিদুল ইসলাম খান বলেন, “মঙ্গলবার অনুশীলনের সময় ডান হাতের তর্জনিতে আঘাত পান মুশফিক। এরপর থেকে তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল। তবে ম্যাচের দিন সকাল পর্যন্ত তার অবস্থার প্রত্যাশিত উন্নতি হয়নি।”
চোটের ধরন ব্যাখ্যা করে বায়েজিদুল বলেন, “এটা একটা কনটিউশন ইনজুরি। আশা করছি, আগামী তিন দিনের মধ্যে ঠিক হয়ে যাবে। পরের ম্যাচ সে খেলতে পারবে।”
চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায়, আঘাতের কারণে নরম টিস্যুতে যে ধরনের চোট সৃষ্টি হয় তাকেই কনটিউশন বলা হয়। মুশফিকের এক্স-রে পরীক্ষায় গুরুতর কোনো ক্ষতি ধরা পড়েনি, যার ফলে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকার আশঙ্কা কম। তবে পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার আগে তাকে নিয়ে কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছে না টিম ম্যানেজমেন্ট।
আগামী ৫ নভেম্বর সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট শুরু হবে। তার আগে সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য বেশ কয়েক দিন সময় পাবেন মুশফিক। তবে সেই ম্যাচে তার অংশগ্রহণ নির্ভর করবে আঙুলের ব্যথা কমা এবং ব্যাটিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ফিটনেস ফিরে পাওয়ার ওপর।
মুশফিকের অনুপস্থিতিতে ঢাকা টেস্টের একাদশে সুযোগ পেয়েছেন তাওহীদ হৃদয়। গত জুনে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক হয়েছিল এই মিডল অর্ডার ব্যাটারের। এবার অভিজ্ঞ মুশফিকের জায়গায় ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে খেলার সুযোগ পেলেন তিনি।
এর আগে চলতি মাসে আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে নিজের সর্বশেষ টেস্টে দ্বিতীয় ইনিংসে ৮১ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেছিলেন মুশফিক। ফলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ঘরের মাঠের সিরিজেও তার ওপর অনেক নির্ভরতা ছিল বাংলাদেশের।
চোটের কারণে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট খেলতে না পারার অভিজ্ঞতা মুশফিকের আগেও রয়েছে। ২০২৪ সালে ক্যারিবীয় সফরের দুই টেস্টেও চোটের কারণে খেলতে পারেননি তিনি। এবার ঘরের মাঠে একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ম্যাচে দর্শক হয়ে থাকতে হচ্ছে অভিজ্ঞ এই ব্যাটারকে।
এদিকে বুধবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হয়েছে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ। টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। প্রথম দিনের মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২ উইকেটে ৯৬ রান।