আকস্মিক হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যুর খবর বর্তমানে আমাদের চারপাশে প্রায়ই শোনা যায়। তবে চিকিৎসকদের মতে, হঠাৎ হার্ট অ্যাটাক হওয়ার আগেও শরীর কিছু বিশেষ সংকেত পাঠায়। সেই লক্ষণগুলো সঠিকভাবে বুঝে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পারলে অনেক ক্ষেত্রে প্রাণ বাঁচানো সম্ভব। এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে করণীয় সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে রাখা জরুরি।

বেশির ভাগ ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাকের আগে শরীর বিভিন্ন উপায়ে সতর্কবার্তা দেয়। এর প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে বুকে সামান্য ব্যথার পাশাপাশি অস্বস্তি অনুভূত হতে পারে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাকের সময় বুকের মাঝখানে প্রচণ্ড চাপ বোধ হয়। এই ব্যথা কয়েক মিনিট ধরে স্থায়ী হতে পারে এবং মাঝেমাঝে তা চলে গিয়ে পুনরায় ফিরে আসে।

এছাড়া আক্রান্ত ব্যক্তি একটি অস্বস্তিকর চাপ ও ঝাঁকুনি অনুভব করেন। অনেক সময় এই অস্বস্তি কেবল বুকে সীমাবদ্ধ না থেকে পিঠ, ঘাড়, চোয়াল এবং পাকস্থলীতেও ছড়িয়ে পড়ে। বুকে অস্বস্তির পাশাপাশি শ্বাসকষ্ট বা শ্বাস ছোট হয়ে আসার সমস্যা দেখা দেয়। শরীর ঠান্ডা হয়ে যাওয়া, অতিরিক্ত ঘাম হওয়া এবং বমি বমি ভাব হওয়াও হার্ট অ্যাটাকের অন্যতম লক্ষণ হতে পারে।

উপসর্গগুলো দ্রুত শনাক্ত করে পদক্ষেপ নিলে বড় ধরনের ক্ষতি এড়ানো সম্ভব। মূলত হৃৎপিণ্ড যখন অপর্যাপ্ত এবং অনিয়মিতভাবে রক্ত সঞ্চালন করে, তখনই হার্ট অ্যাটাক ঘটে। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ধূমপানের অভ্যাস, অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং অতিরিক্ত মানসিক চাপসহ নানা কারণে এই সমস্যা হতে পারে।

যদি হঠাৎ হার্ট অ্যাটাক হয়ে যায়, তবে আতঙ্কিত না হয়ে ধৈর্য ধরতে হবে। এমন অবস্থায় দ্রুত জোরে এবং ঘন ঘন কাশি দেওয়ার চেষ্টা করুন, যেন কাশির সঙ্গে কফ বের হয়ে আসে। প্রতিবার কাশি দেওয়ার আগে একটি দীর্ঘশ্বাস নিন।

এই প্রক্রিয়ায় ঘন ঘন কাশি এবং দীর্ঘশ্বাস নেওয়ার কাজটিকে প্রতি দুই মিনিট পরপর পুনরাবৃত্তি করতে থাকুন। এতে করে হৃৎপিণ্ড কিছুটা হলেও নিয়মিতভাবে রক্ত সঞ্চালন করতে সক্ষম হবে।

রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার আগে এই পদ্ধতিটি তাকে অনেকখানি সাপোর্ট দেবে। কারণ, দীর্ঘশ্বাসের ফলে শরীরে অক্সিজেনের পরিবহন বৃদ্ধি পায় এবং ঘন ঘন কাশি দেওয়ার ফলে বুকে যে চাপের সৃষ্টি হয়, তা হার্টকে পর্যাপ্ত ও নিয়মিতভাবে রক্ত সঞ্চালনের জন্য প্রস্তুত করতে সাহায্য করে।