কক্সবাজারের উখিয়ায় একটি গভীর নলকূপ খননের সময় মাটির নিচ থেকে হঠাৎ গ্যাসের আগুন বেরিয়ে এসেছে। দীর্ঘ ১৪ ঘণ্টা চেষ্টা করেও এই আগুন নেভানো সম্ভব হয়নি। বিকেল পাঁচটার পর আগুনের তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পায়। রাতের অন্ধকারে দাউদাউ করে জ্বলতে থাকা এই আগুনের দৃশ্য দেখতে মেরিন ড্রাইভ ও ছোট ব্রিজ এলাকায় প্রচুর মানুষের ভিড় জমেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে। ইনানী মেরিন ড্রাইভের ছোট ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় মোস্তফা সিকদারের বাড়ির আঙিনায় এই আগুনের সূত্রপাত হয়।
সকাল থেকেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ যৌথ প্রচেষ্টা চালায়। তবে রাত সাড়ে নয়টা পর্যন্ত চেষ্টা করেও আগুন নেভানো সম্ভব হয়নি। আগুনের তীব্রতা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় বেলা তিনটার দিকে ঘটনাস্থল থেকে সাধারণ মানুষকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়া হয়। বড় ধরনের ঝুঁকি এড়াতে সেখানে একটি নিরাপত্তাবলয় তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া আগুনের লেলিহান শিখা বিদ্যুৎ লাইনের তারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কক্সবাজারের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা দোলন আচার্য্য্য বলেন, “আগুন নিয়ন্ত্রণে না আসায় আশপাশের লোকজনকে সরিয়ে নেওয়া হয়। ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষণের জন্য ফায়ার সার্ভিসের একটি দল রাখা হয়েছে। মাটির নিচে জ্বালানি গ্যাসের উপস্থিতি ও পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডকে (বাপেক্স) জানানো হয়েছে।”
জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানান, নলকূপ খনন করতে গিয়ে সেখানে প্রাকৃতিক গ্যাসের সন্ধান মিলেছে। ঝুঁকি কমাতে নিরাপত্তাবলয় তৈরি করা হয়েছে এবং বিষয়টি বাপেক্সকে অবহিত করা হয়েছে। ঢাকা থেকে দুই সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল সন্ধ্যার পর বিমানে কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছেছে। তারা রাতে ঘটনাস্থলে গিয়ে গ্যাসের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখবেন এবং প্রয়োজনীয় কাজ শুরু করবেন।
উখিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মাটির নিচ থেকে বেরিয়ে আসা গ্যাসের আগুন বিদ্যুতের খুঁটির তারে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই কারণে ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ লাইনের মনখালী থেকে পাটুয়ারটেক পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে। উল্লেখ্য, আগুন জ্বলতে থাকা স্থানটির আশেপাশে বেশ কয়েকটি বিদ্যুতের খুঁটি রয়েছে।
উখিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম বলেন, “বাড়ির আঙিনায় গভীর নলকূপ খননের সময় মাটির নিচ থেকে গ্যাসের আগুন বেরিয়ে আসে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ভূগর্ভে গ্যাসের উপস্থিতির কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ওই এলাকায় গ্যাসের কোনো পাইপলাইন নেই।” ঘটনাস্থলটি কক্সবাজার শহর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
স্থানীয় জালিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শামশুল আলম জানান, ঢাকার এক ব্যক্তি মোস্তফা সিকদারের বাড়ির কিছু জমি কিনেছেন। ১০ থেকে ১৫ দিন আগে সেখানে একটি গভীর নলকূপ খনন করা হয়। তবে ৬০০ থেকে ৭০০ ফুট গভীর পর্যন্ত খনন করেও পানির সন্ধান না পাওয়ায় গতকাল সোমবার পাশের আরেকটি জায়গায় নলকূপ খননের কাজ শুরু করেন শ্রমিকেরা। আজ সকাল সাড়ে সাতটার দিকে ওই নলকূপ থেকে হঠাৎ গ্যাসের আগুন বেরিয়ে আসে।
শামশুল আলম আরও জানান, “প্রথমে স্থানীয় লোকজন বালু ও পানি ছিটিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। সকাল সাড়ে আটটার দিকে উখিয়া ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। পরে কক্সবাজার শহর থেকে আরও একটি ইউনিট আসে; কিন্তু রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত আগুন নেভানো সম্ভব হয়নি।” আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
তবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির মতে, ঘটনাস্থলের আশপাশে কোনো বসতবাড়ি কিংবা আবাসিক হোটেল-রিসোর্ট না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে প্রাণহানির আশঙ্কা কম।