কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন ইনানী গ্রামে একটি গভীর নলকূপ বসানোর সময় হঠাৎ প্রাকৃতিক গ্যাসের সন্ধান পাওয়ার ফলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে সাতটা থেকেই ওই বাড়ির আঙিনায় দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। বেলা একটার সময় পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট চেষ্টা চালিয়ে গেলেও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।

উখিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম জানান, বাড়ির আঙিনায় একটি গভীর নলকূপ বসানোর কাজ চলাকালীন হঠাৎ গ্যাসের আগুন বেরিয়ে আসে। বর্তমানে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট যৌথভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। তিনি আরও জানান, "বাড়ির আঙিনায় একটি গভীর নলকূপ বসানোর কাজের সময় গ্যাসের আগুন বেরিয়ে আসে। ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালাচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মাটির নিচে গ্যাস থাকায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।"

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার এক ব্যক্তি সম্প্রতি ইনানী গ্রামের ছোট সেতু এলাকায় মোস্তফা সিকদারের বাড়ির কিছু জমি ক্রয় করেন। প্রায় ১০ থেকে ১৫ দিন আগে সেখানে একটি গভীর নলকূপ খনন করা হয়েছিল। তবে ৭০০ ফুট গভীরে খনন করার পরও সেখানে পানযোগ্য পানি পাওয়া যায়নি। এরপর গতকাল সোমবার থেকে শ্রমিকেরা পাশের অন্য একটি স্থানে পুনরায় নলকূপ বসানোর কাজ শুরু করেন।

আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে হঠাৎ নলকূপ থেকে আগুনের শিখা বেরিয়ে আসে। স্থানীয় বাসিন্দারা তাৎক্ষণিকভাবে বালু ও পানি ব্যবহার করে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। সকাল সাড়ে আটটার দিকে উখিয়া ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে তাতে কাজ না হওয়ায় কক্সবাজার শহর থেকে আরও একটি ইউনিট আনা হয়। এত কিছুর পরেও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় জালিয়া পালং ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শামশুল আলম বলেন, "বেলা একটার দিকেও আগুন নেভানো যায়নি। আগুনের তীব্রতা বাড়ছে। এই এলাকার মাটির নিচে গ্যাসের কোনো পাইপলাইন নাই। ধারণা করা হচ্ছে, এটি প্রাকৃতিক গ্যাস। আগুন জ্বলতে থাকায় স্থানীয় জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তবে আশপাশে লোকজনের ঘরবাড়ি কিংবা আবাসিক হোটেল-রিসোর্ট না থাকায় হতাহতের শঙ্কা নেই।"

কক্সবাজার শহর থেকে ২৫ কিলোমিটার দক্ষিণ মেরিন ড্রাইভের পাশে অবস্থিত তারকা হোটেল বে ওয়াচ। এই হোটেলটির কিছুটা দূরে ইনানী গ্রামের ছোট সেতু এলাকায় মোস্তফা সিকদারের বাড়ি। ওই হোটেলে কর্মরত স্থানীয় যুবক আল আমিন আগুন জ্বলতে দেখে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তিনি জানান, “যে বাড়িতে আগুনের সৃষ্টি হয়েছে, পাশের ঘরেই আমরা কয়েকজন হোটেলকর্মী থাকি। ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালাচ্ছে, স্থানীয় লোকজনও তাতে সহযোগিতা করছেন। কিন্তু আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। মাটির নিচ থেকে গ্যাস বেরিয়ে আসছে।”

এদিকে, মাটির নিচ থেকে নির্গত গ্যাসের আগুনের তীব্রতায় বিদ্যুতের খুঁটির তারে আগুন লেগে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এই আশঙ্কা থেকে উখিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির একজন কর্মকর্তা জানান, ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ লাইনের মনখালী থেকে পাটুয়ারটেক পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে।