রংপুরের পীরগঞ্জে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্ম অবমাননাকর ভিডিও প্রকাশের অভিযোগকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এই উত্তেজনার সুযোগ নিয়ে তিনটি পরিবারের বসতবাড়িতে হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এই সহিংসতা ও ধর্ম অবমাননার ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং পুলিশ এখন পর্যন্ত দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর পীরগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের চক করিম (তেলিপাড়া) গ্রামে এই অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার পরপরই এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং শান্তি বজায় রাখতে দ্রুত অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

পুলিশি অভিযানে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে অভিযুক্ত সৌরভ চন্দ্র মহন্ত (২২) এবং বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় অভিযুক্ত শফিকুর ইসলাম আরিফকে (২৮) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চক করিম তেলিপাড়া গ্রামের বিশু চন্দ্র মহন্তের ছেলে সৌরভ চন্দ্র মহন্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন, যা ধর্ম অবমাননাকর বলে অভিযোগ ওঠে। ভিডিওটি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। এই উত্তেজনার সুযোগ নিয়ে একদল উত্তেজিত লোক তিনটি পরিবারের বাড়িঘরে হামলা চালায় এবং ব্যাপক ভাঙচুর করে বলে অভিযোগ রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, এই হামলার সময় তাদের তিনটি ছাগল এবং ঘরের আসবাবপত্র লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই পুরো ঘটনায় দুটি আলাদা মামলা করা হয়েছে। প্রথমত, বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় সৌরভের বাবা বিশু চন্দ্র মহন্ত বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। দ্বিতীয়ত, ধর্ম অবমাননার অভিযোগে স্থানীয় বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে আরেকটি মামলা করেছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, ধর্ম অবমাননার অভিযোগে অভিযুক্ত সৌরভ চন্দ্র মহন্তকে বগুড়ার শিবগঞ্জ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদিকে, বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় অভিযুক্ত শফিকুর ইসলাম আরিফকে সোমবার রাতেই তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক বলেন, “এখন পর্যন্ত আমরা দুজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।”

সোমবার রাতে ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন জেলা পুলিশ সুপার মোজাম্মেল হক। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে বাড়িঘর ভাঙচুর করা যাবে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে পোস্ট দেওয়া যেমন অপরাধ, তেমনি এ অভিযোগে কারও বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুর করাও অপরাধ। এসব ঘটনায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”