পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে আগামীকাল বুধবার থেকে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ থেকে ঢাকামুখী সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ফ্লাইট পুনরায় চালু হতে পারে। আজ মঙ্গলবার সৌদি কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
গত ১০ অক্টোবর সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের হামলার ঘটনা ঘটে। এই হামলার পর নিরাপত্তা জনিত কারণে বিমানবন্দরটিতে বেশ কয়েক দিন ফ্লাইট ওঠানামা বন্ধ রাখা হয়েছিল। বাংলাদেশ সময় ১৪ অক্টোবর রাত তিনটা পর্যন্ত ওই বিমানবন্দরের সব ধরনের কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে সেখানে ফ্লাইট চলাচল শুরু হয়।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) তাদের এক পৃথক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে ফ্লাইট পরিচালনায় বিধিনিষেধ আরোপের ফলে ঢাকা থেকে এখন পর্যন্ত মোট ১৪৬টি সরাসরি ও ট্রানজিট ফ্লাইট স্থগিত অথবা বাতিল করা হয়েছে। এই পরিস্থিতির কারণে সংশ্লিষ্ট ফ্লাইটের মোট ২২ হাজার ২৪১ জন যাত্রী চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন।
বেবিচকের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত সরাসরি ফ্লাইটের সংখ্যা মোট ৬৯টি। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ২৯টি, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ১৯টি, রিয়াদ এয়ারলাইনসের ১১টি এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি ফ্লাইট রয়েছে।
অন্যদিকে, ক্ষতিগ্রস্ত ৭৭টি ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগোর ৩০টি, এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৮টি, এয়ার ইন্ডিয়ার ৮টি, সালাম এয়ারের ৭টি এবং ইজিপ্টএয়ারের ১টি ফ্লাইট অন্তর্ভুক্ত ছিল।
বর্তমান উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যাত্রীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রিয়াদ ও দাম্মাম রুটে ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। তাদের সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ৪ নভেম্বর পর্যন্ত ঢাকা থেকে রিয়াদ ও দাম্মাম রুটে বিমানের ফ্লাইট স্থগিত থাকবে।
এর আগে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি লক্ষ্য করায় ২১ অক্টোবর থেকে দাম্মাম রুটে পুনরায় ফ্লাইট চালু করেছিল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। সেই ধারাবাহিকতায় পরদিন ২২ অক্টোবর সকাল ৮টায় ৩৭৯ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকা থেকে দাম্মামের উদ্দেশ্যে একটি ফ্লাইট ছেড়ে গিয়েছিল। তবে পরবর্তীতে নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনা করে রিয়াদ ও দাম্মাম রুটের ফ্লাইট স্থগিতের মেয়াদ আরও বাড়ানো হয়।
উল্লেখ্য যে, রিয়াদ ও দাম্মাম রুটে ফ্লাইট চলাচল স্থগিত থাকলেও জেদ্দা ও মদিনা রুটে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করে যাচ্ছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।