ঠাকুরগাঁও জেলা ও দায়রা জজ আদালতের প্রাঙ্গণে আসামিদের হাজতখানায় নিয়ে যাওয়ার সময় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে সেখানে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে এবং এক পুলিশ সদস্য আহত হন। রবিউল ইসলাম নামের ওই পুলিশ সদস্য মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার (২৭ সেপ্টেম্বর) ঠাকুরগাঁও আদালত চত্বরে এই অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার ঘটনাটি ঘটে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের ১৭ জন নেতাকর্মীর জামিন আবেদন শুনানি চলে। ঠাকুরগাঁও জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. জামাল হোসেন শুনানি শেষে তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন এবং আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আহত পুলিশ সদস্য রবিউল ইসলাম জানান, আসামিদের নিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ দুই থেকে তিন ব্যক্তি তার মাথায় আঘাত করে এবং দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যান। এই ঘটনার পরপরই পরিস্থিতি সামাল দিতে আদালত চত্বরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

মামলাটির বিবরণ অনুযায়ী, গত বছরের ১৬ আগস্ট পীরগঞ্জ থানার এসআই মো. আশরাফুল ইসলাম বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় পীরগঞ্জ উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো. আকতারুল ইসলামসহ ২০ জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২৫ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে যে, পীরগঞ্জের ভাকুরা ধনীপাড়া গ্রামে আকতারুল ইসলামের বাড়িতে গোপন বৈঠকের মাধ্যমে আসামিরা রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড এবং নাশকতার পরিকল্পনা করেছিলেন। পরবর্তীতে পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন আলামত জব্দ করে এবং দুজনকে গ্রেপ্তার করে।

মামলার এজাহারে থাকা ২০ জন আসামির মধ্যে ১৭ জন উচ্চ আদালত থেকে ছয় সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পেয়েছিলেন। সেই জামিনের মেয়াদ শেষ হলে আজ মঙ্গলবার তারা আদালতে আত্মসমর্পণ করে নিয়মিত জামিনের আবেদন জানান। তবে আদালত তাদের আবেদন নাকচ করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. আনোয়ার হোসেন মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “তার মক্কেলরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। মামলায় প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করা ফেসবুকের ছবি ও স্ক্রিনশটে সুনির্দিষ্ট তারিখ বা তথ্য নেই। ছবিগুলো পুরোনো কিংবা এআই দিয়ে তৈরি বা পরিবর্তিত হয়ে থাকতে পারে। আমরা পরবর্তী সময়ে উচ্চ আদালতে আইনি লড়াই চালিয়ে যাব।”