জাতীয় গ্রিডের একাংশে বিপর্যয়ের ফলে আজ মঙ্গলবার প্রায় দুই ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন ছিল ঢাকার বিভিন্ন এলাকা এবং দেশের আরও কিছু অংশ। এই বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রভাব পড়েছিল মেট্রোরেল লাইনের একটি সাবস্টেশনের ওপর, যেখানে বিদ্যুৎ সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এই পরিস্থিতির কারণে মেট্রোরেলের চলাচলে কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটেনি।

ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) জানিয়েছে, জাতীয় গ্রিডে বড় ধরনের বিপর্যয়ের কারণে যদি পুরো দেশ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে, তবুও মেট্রোরেলের চলাচল তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ হবে না।

আজকের এই আংশিক বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের পর ডিএমটিসিএলের পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) মো. নজরুল ইসলাম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “মেট্রোরেল চলাচল ব্যাহত হয়নি। তাঁরা উত্তরা সাবস্টেশন থেকে বিদ্যুৎ পেয়েছেন।”

বর্তমানে ঢাকার উত্তরা থেকে মতিঝিল রুটে মেট্রোরেল চলাচল করছে। এই পুরো কার্যক্রম পরিচালনার জন্য উত্তরা ও মতিঝিলে দুটি পৃথক সাবস্টেশন রয়েছে। ডিএমটিসিএল সূত্রে জানা গেছে, আজকের বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের ফলে মতিঝিলের সাবস্টেশনটি অকেজো হয়ে পড়েছিল। উল্লেখ্য, এই সাবস্টেশনে মানিকনগর থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। অন্যদিকে, উত্তরা সাবস্টেশনে বিদ্যুৎ আসে টঙ্গী থেকে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মতিঝিল সাবস্টেশনটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরপরই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহের পুরো ব্যবস্থা উত্তরা সাবস্টেশনের আওতায় চলে আসে। ফলে উত্তরা সাবস্টেশন থেকে বিদ্যুৎ গ্রহণ করে মেট্রোরেল তার স্বাভাবিক চলাচল অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়।

বিকল্প বিদ্যুতে চলবে তিন ঘণ্টা

ডিএমটিসিএল সূত্র আরও জানিয়েছে, জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেলেও মেট্রোরেল সচল রাখার জন্য দুটি বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রথমটি হলো ৩৩ কেভি জরুরি বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা এবং দ্বিতীয়টি হলো ইমার্জেন্সি সাব সিস্টেম (ইএসএস)।

৩৩ কেভি জরুরি বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থাটি মূলত ডিএমটিসিএলের নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা। জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে এই ব্যবস্থাটি সক্রিয় করা হবে, যার মাধ্যমে অন্তত দুই ঘণ্টা মেট্রোরেল চালানো সম্ভব হবে।

এই ব্যবস্থার বিদ্যুৎ শেষ হয়ে গেলে ইএসএস চালু করা হবে। এটি মূলত ব্যাটারির মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংরক্ষণের একটি বিশেষ ব্যবস্থা, যা জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যবহৃত হয়। এই সংরক্ষিত বিদ্যুতের সাহায্যে আরও এক ঘণ্টা মেট্রোরেল চালানো সম্ভব।

অর্থাৎ, জাতীয় গ্রিড অকেজো হলে প্রথমে নিজস্ব জরুরি বিদ্যুৎ উৎপাদনব্যবস্থা এবং পরবর্তীতে ব্যাটারিতে জমা থাকা বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হবে। তবে এই দুই বিকল্প ব্যবস্থার বিদ্যুৎও শেষ হয়ে গেলে এবং তার মধ্যে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে।

ডিএমটিসিএলের পরিচালক নজরুল ইসলাম বলেন, “সারা দেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকলেও বিকল্প ব্যবস্থায় তিন ঘণ্টা মেট্রোরেল চালানো যাবে।”