কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ছেঁউড়িয়ায় অবস্থিত ফকির লালন শাহর আখড়াবাড়ির দানবাক্স ১৫ দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো খোলা হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুরে দুটি দানবাক্স থেকে মোট ৮ লাখ ২৭ হাজার ৪৫০ টাকা পাওয়া গেছে।
কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জাকির হোসেনসহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে দানবাক্সের সিলগালা ভেঙে টাকা বের করা হয়। এরপর লালন একাডেমি ভবনের চারতলায় টানা তিন ঘণ্টা ধরে এই অর্থ গণনার কাজ চলে।
এর আগে গত ১০ অক্টোবর প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে এই দানবাক্স খুলে টাকা গণনা করা হয়েছিল। সেদিন সংগৃহীত অর্থের পরিমাণ ছিল ৬ লাখ ৪৯ হাজার ৩৪৮ টাকা। পরদিন রোববার ওই অর্থ লালন একাডেমির ব্যাংক হিসাবে জমা করা হয়। গতকাল সংগৃহীত টাকাও একইভাবে ওই ব্যাংক হিসাবেই জমা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাইসুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “লালন সাঁইয়ের দুটি উৎসবকে ঘিরে বছরে চারবার দানবাক্স খোলা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় ১৩৬তম তিরোধান দিবসের সাত দিন পর দানবাক্স খোলা হয়েছে।”
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বছর লালন শাহর তিরোধান দিবস ও দোলপূর্ণিমা উপলক্ষে ছেঁউড়িয়ার আখড়াবাড়িতে সরকারি ও স্থানীয় প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এসব বিশেষ অনুষ্ঠানে দেশ ও বিদেশ থেকে হাজার হাজার ফকির, সাধু, ভক্ত এবং দর্শনার্থীরা ভিড় করেন। সারা বছরই ভক্তরা মাজার দর্শনে এসে দানবাক্সে অর্থ প্রদান করে থাকেন।
উল্লেখ্য যে, বছরে চারবার দানবাক্স খোলা হলেও আগে তা প্রকাশ্যে জানানো হতো না। তবে গত ১০ অক্টোবর থেকে এই প্রক্রিয়াটি প্রকাশ্যে আনা হয়েছে। গতকাল পুনরায় প্রকাশ্যে দানবাক্স খোলা এবং টাকা গণনার এই উদ্যোগকে স্থানীয় বাসিন্দারা স্বাগত জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, দানের অর্থের সঠিক ব্যবহার এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনায় পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন আখড়াবাড়ির ফকির-সাধুরা। আখড়াবাড়িতে অবস্থানরত কল্পনা নামের এক ব্যক্তি বলেন, “আমরা চাই দানবাক্সের টাকা সঠিকভাবে ব্যবহার করা হোক। এই টাকা দিয়ে আখড়াবাড়িতে উন্নয়নমূলক কাজ করা হোক।”
লালন একাডেমির সদস্যসচিব ও জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার মেহেদী হাসান জানান, লালন একাডেমির সিন্দুক বা দানবাক্স প্রকাশ্যে খুলে টাকা গণনা করা হয়েছে এবং সেই অর্থ একাডেমির নির্ধারিত হিসাব নম্বরে জমা দেওয়া হয়েছে। এই গণনার কাজে জেলা প্রশাসন ও লালন একাডেমি কার্যালয়ের অন্তত ১৫ জন কর্মচারী সহায়তা করেছেন।
গত বছরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৩৫তম তিরোধান দিবসের আগে দানবাক্স খুলে পাওয়া গিয়েছিল ৪ লাখ ৯২ হাজার ২৬৪ টাকা। এরপর তিরোধান দিবসের তিন দিন পর পুনরায় দানবাক্স খুললে পাওয়া যায় ৯ লাখ ২২ হাজার ২৪২ টাকা। গতকাল দানবাক্স খোলার সময় কুমারখালী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাভিদ সারওয়ারসহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।