তৈরি পোশাক খাতের জন্য নতুন ক্রেতা খোঁজার লক্ষ্যে আগামীকাল বুধবার হংকংয়ে 'বাংলাদেশ অ্যাপারেল রোড শো' অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। দিনব্যাপী এই বিশেষ আয়োজনে বাংলাদেশের পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা আন্তর্জাতিক ক্রেতা প্রতিনিধিদের সামনে দেশের পোশাক উৎপাদন সক্ষমতা, পণ্যের বৈচিত্র্য এবং টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থার বিস্তারিত তুলে ধরবেন।

তৈরি পোশাকশিল্পমালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ এবং বহুজাতিক ব্যাংক এইচএসবিসি যৌথভাবে এই রোড শো-এর আয়োজন করছে। আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, এই অনুষ্ঠানে অন্তত ৫৭টি আন্তর্জাতিক ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি অংশ নেবেন। বাংলাদেশ থেকে একটি প্রতিনিধি দল যাচ্ছে, যাতে ২৬ থেকে ২৭ জন সদস্য থাকবেন।

হংকংয়ের আইসল্যান্ড সাংগ্রি–লা হোটেলে এই রোড শো অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে। অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী অধিবেশনে বক্তব্য রাখবেন এইচএসবিসির হেড অব গ্লোবাল নেটওয়ার্ক ব্যাংকিং (করপোরেট অ্যান্ড ইনস্টিটিউশনাল ব্যাংকিং) অলিভার জোনস, বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান এবং হংকংয়ে নিযুক্ত বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল শাহ মোহাম্মদ তানভীর মনসুর।

অনুষ্ঠানের একটি বিশেষ অংশে ‘কেন বাংলাদেশ: ঐতিহ্য ও ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি রুবানা হক। এছাড়া ‘বাংলাদেশ থেকে কেন পোশাক কিনবেন’ শীর্ষক আলোচনা অধিবেশনে অংশ নেবেন বিজিএমইএর সভাপতি, এপিক গ্রুপের চেয়ারম্যান রঞ্জন মাথানি, পিডিএস গ্রুপের সিম্পল অ্যাপ্রোচের এমডি সানি মালহোত্রা এবং ডেটা ডেভেলপ কনসাল্টিংয়ের এমডি হ্যানরি সু। পুরো অধিবেশনটি সঞ্চালনা করবেন এইচএসবিসি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাহবুব উর রহমান। প্রদর্শনী হিসেবে অনুষ্ঠানস্থলে বাংলাদেশের কারখানায় তৈরি বিভিন্ন পোশাক প্রদর্শিত হবে।

হংকংয়ে এই রোড শো আয়োজনের কারণ ব্যাখ্যা করে বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘প্রতিটি ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের সোর্সিং অফিস চীনে থাকে। কারণ, সেখান থেকে তারা কাঁচামাল সংগ্রহ করে। সে জন্য আমরা হংকংকে বেছে নিয়েছি। এ আয়োজনে আমরা যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), জাপান, দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশের যেসব ক্রেতা প্রতিষ্ঠান আমাদের দেশ থেকে তৈরি পোশাক কেনে না, তাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছি। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, ইইউ ও কানাডার যেসব ক্রেতা আমাদের কাছ থেকে কম তৈরি পোশাক কেনে, তাদেরও আমন্ত্রণ জানিয়েছি।’

জানা গেছে, এই রোড শোতে আলভালন, চিসেজ হোল্ডিং গ্রুপ, গ্যালাক্সি সান, বেসিকলাইন, ক্যারফুর, সেন্ট্রিক ব্র্যান্ডস, র গ্রুপ, টেক্সউইঙ্কা, ফ্রন্টালে ক্লোদিং, এইচঅ্যান্ডএম, কন্টুর, জে ক্রু, কিয়াবি, লাকোস্ত, লুয়েন থাই, মারুবেনি, ওমনিব্র্যান্ড, পিভিএইচ, কুইন্স, রয়্যাল স্পিরিট, সেইন্সবারি, টার্গেট, টশিবো, টেনডাম রিটেইল এসএ, টেক্সউইঙ্কা, উইনিং রিসোর্সেসসহ বিভিন্ন নামী ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন।

দীর্ঘদিন ধরে দেশের শিল্প খাত গ্যাস ও বিদ্যুতের তীব্র সংকটে ভুগছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন ক্রেতা আকর্ষণে রোড শো কতটা কার্যকর হবে, এমন প্রশ্নের জবাবে বিজিএমইএ সভাপতি জানান, ‘গ্যাস–বিদ্যুতের সংকট থাকলেও আমরা ক্রেতাদের ক্রয়াদেশের পণ্য সময়মতো রপ্তানি করছি। এ ক্ষেত্রে কোনো ব্যতয় হচ্ছে না। যদিও জ্বালানিসংকটে তৈরি পোশাকশিল্পমালিকদের উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে।’

মাহমুদ হাসান খান আরও বলেন, ‘আমরা এই রোড শোর মাধ্যমে কিছু নতুন ক্রেতা প্রতিষ্ঠানকে আমাদের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করব। পাশাপাশি যেসব ক্রেতা বর্তমানে কম পরিমাণ কিনছে, তাদের কাছে সরবরাহ বাড়ানোর চেষ্টাও থাকবে।’