হলিউডের নতুন চলচ্চিত্র ‘উইকার’-এর সেটে এক অদ্ভুত ও হাস্যকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন অভিনেতা আলেকজান্ডার স্কারসগার্ড এবং অভিনেত্রী অলিভিয়া কোলম্যান। ছবির একটি অন্তরঙ্গ দৃশ্য ধারণের সময় হঠাৎ করে বিছানা ভেঙে যাওয়ায় পুরো শুটিং সেটে হাসির রোল ওঠে। রোমাঞ্চকর এই অভিজ্ঞতা এখন চলচ্চিত্র অঙ্গনে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সাধারণত ঘনিষ্ঠ দৃশ্যের শুটিংয়ের সময় অভিনয়শিল্পীদের মধ্যে এক ধরনের জড়তা, অস্বস্তি কিংবা বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হওয়া খুব স্বাভাবিক। তবে সেই গম্ভীর মুহূর্তেই যদি বিছানা ভেঙে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটে, তবে সেখানে স্বাভাবিক থাকা সত্যিই কঠিন। ‘উইকার’ সিনেমার ক্ষেত্রেও ঠিক তেমনটিই ঘটেছে, যা শেষ পর্যন্ত সেটের সবার জন্য বিনোদনের খোরাক হয়ে দাঁড়ায়।
সম্প্রতি মার্কিন সাময়িকী পিপল-এর সাথে আলাপকালে এই অভিজ্ঞতার কথা বিস্তারিত জানিয়েছেন আলেকজান্ডার স্কারসগার্ড। তাঁর ভাষায়, দৃশ্যটি ছিল অনেকটা রোলারকোস্টারে চড়ার মতো। বিছানাটি কখন ভেঙে পড়বে, তা নিয়ে তাঁরা আগে থেকেই একধরনের উত্তেজনা অনুভব করছিলেন। শেষ পর্যন্ত যখন সেটি সত্যিই ভেঙে যায়, তখন হাসি থামানো কঠিন হয়ে পড়ে।
অভিনেত্রী অলিভিয়া কোলম্যানও এই ঘটনার কথা উল্লেখ করে জানান, বিছানা ভেঙে পড়ার মুহূর্তে তাঁরা প্রাণ খুলে হেসেছিলেন। তাঁর মতে, ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে হাস্যরস থাকলে অস্বস্তি অনেকটাই কমে যায়। বাস্তব জীবনের মতো স্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হয়। অন্যথায় অতিরিক্ত গম্ভীরভাবে প্রেমের দৃশ্য ধারণ করা তাঁর কাছে ভীষণ বিব্রতকর মনে হতো।
তবে ‘উইকার’ সিনেমায় স্কারসগার্ডের জন্য চ্যালেঞ্জ শুধু হাসি সামলানোই ছিল না। ছবিতে তাঁকে সম্পূর্ণ বেত দিয়ে তৈরি এক বিশেষ পোশাক পরে অভিনয় করতে হয়েছে, যা পরে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করাও ছিল বেশ কষ্টসাধ্য।
অভিনেতা জানান, শুটিংয়ের প্রথম কয়েক দিনেই তাঁদের ঘনিষ্ঠ দৃশ্যগুলো ধারণ করতে হয়েছিল। সেই সময়ে তিনি তখনও বেতের পোশাকটির সীমাবদ্ধতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। যেহেতু পোশাকটি বাস্তব উপকরণ দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল এবং এতে কম্পিউটারনির্ভর দৃশ্যের (CGI) ব্যবহার ছিল খুবই সামান্য, তাই শরীরের নড়াচড়া, দৃশ্যের পরিকল্পনা ও অভিনয়ের ধরনের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়েছিল।
এই পরিস্থিতি নিয়ে মজা করে কোলম্যান বলেন, স্কারসগার্ড যেভাবে সবকিছু সামলেছেন, তাতে তিনি মুগ্ধ। তিনি মনে করেন, তাঁর নিজের ক্ষেত্রে এমন পরিস্থিতি হলে হয়তো বারবার বিরতি চাইতেন। জবাবে স্কারসগার্ডও রসিকতা করে জানান, বাইরে থেকে অভিযোগ না করলেও ভেতরে ভেতরে তিনি কষ্ট পাচ্ছিলেন।
‘উইকার’ সিনেমার গল্পের কথা বলতে গেলে জানা যায়, অ্যালেক্স হিউস্টন ফিশার ও এলেনর উইলসনের লেখা এই চিত্রনাট্যটি ‘দ্য উইকার হাজব্যান্ড’ নামক একটি ছোটগল্পের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত। ছবির কাহিনীতে অলিভিয়া কোলম্যান একজন নিঃসঙ্গ গ্রামবাসী নারীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন। সঙ্গী পাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা থেকে তিনি এক ঝুড়িশিল্পীকে দিয়ে নিজের জন্য বেতের তৈরি একজন স্বামী বানিয়ে নেন। সেই অদ্ভুত স্বামীর চরিত্রটিই ফুটিয়ে তুলেছেন আলেকজান্ডার স্কারসগার্ড। এছাড়া ছবিতে অভিনয় করেছেন জনপ্রিয় অভিনেতা পিটার ডিংকলেজ।
স্কারসগার্ড জানান, ছবিটির অদ্ভুত কাহিনির পাশাপাশি এর কোমলতা, রোমান্টিক আবহ এবং হাস্যরস তাঁকে প্রবলভাবে আকর্ষণ করেছে। তাঁর মতে, এই ছবির চরিত্রগুলো গতানুগতিক ছাঁচে তৈরি করা হয়নি, এমনকি বিরোধী চরিত্রের অবস্থানও দর্শক বুঝতে পারবেন।
আগামী ৩০ অক্টোবর থেকে সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হবে।