আজ ১২ অক্টোবর হলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা হিউ জ্যাকম্যানের জন্মদিন। ১৯৬৮ সালের এই দিনে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে জন্ম নেন। এ অভিনেতার বয়স ৫৮ বছর পূর্ণ হলো। ‘এক্স-মেন’ সিরিজের উলভারিন চরিত্র তাঁকে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি দিয়েছে। তবে তাঁর পরিচয় শুধু সুপারহিরো চরিত্রে সীমাবদ্ধ নয়—মঞ্চে অভিনয়, গানের দক্ষতা, পুরস্কারজয়ী পারফরম্যান্স এবং ব্যক্তিগত জীবনের নানা চড়াই-উতরাই মিলিয়ে তাঁর ক্যারিয়ার বেশ বৈচিত্র্যময়।

হিউ জ্যাকম্যানের অভিনয়জীবনের শুরু অস্ট্রেলিয়ায়। বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগাযোগবিদ্যায় পড়াশোনা শেষ করে তিনি অভিনয়ের প্রশিক্ষণ নেন ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ান একাডেমি অব পারফর্মিং আর্টসে। ১৯৯৫ সালে টেলিভিশন সিরিজ ‘কোরেলি’তে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে পেশাদার অভিনয়জীবন শুরু হয় তাঁর। এরপর মঞ্চনাটক ও সংগীতনাটকে অভিনয় করে নিজেকে তৈরি করেন। কিন্তু শুরুটাই ছিল চ্যালেঞ্জিং। একের পর এক সফল হননি। তাঁকে টানা পাঁচ বছর পরিশ্রম করতে হয়। পরে ২০০০ সালে ‘এক্স-মেন’ সিনেমায় উলভারিন চরিত্রে অভিনয় করে আন্তর্জাতিক পরিচিতি পান হিউ জ্যাকম্যান। চরিত্রটির জন্য শারীরিক প্রশিক্ষণ, পেশি গঠন ও অ্যাকশন দৃশ্যের প্রস্তুতি নিতে হয়েছে তাঁকে। পরে ‘লোগান’, ‘দ্য প্রেস্টিজ’, ‘লেস মিজারেবল’ ও ‘দ্য গ্রেটেস্ট শোম্যান’–এর মতো সিনেমায় অভিনয় করে নিজের বৈচিত্র্য প্রমাণ করেন।

ব্যর্থতা থেকেও শিখেছেনজ্যাকম্যানের সাফল্যের পথ সব সময় মসৃণ ছিল না। ২০২৬ সালের মে মাসে বল স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, জীবনের অনেক ভালো ঘটনা এসেছে ভুল ও ব্যর্থতার মধ্য দিয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় অভিনয়ের একটি কোর্স নিতে গিয়ে তিনি নিজের আগ্রহ খুঁজে পান। পরে অভিনয়ের প্রশিক্ষণ নিতে গিয়ে অর্থের সংকটও মোকাবিলা করতে হয়েছিল তাঁকে। জ্যাকম্যানের ভাষায়, ‘জীবন আমার পরিকল্পনামতো এগোয়নি। ব্যর্থতা থেকে সফলতা পেয়েছি।’ তাঁর এই অভিজ্ঞতা তরুণদের জন্যও অনুপ্রেরণার। ব্যর্থতাকে শেষ বলে না ধরে নতুন পথ খোঁজার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

জীবনের কঠিন সময়ব্যক্তিগত জীবনেও নানা কঠিন সময়ের মুখোমুখি হয়েছেন এই অভিনেতা। আট বছর বয়সে তাঁর মা পরিবার ছেড়ে চলে যান। পরে বাবার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল গভীর। ২০২২ সালে আলঝেইমার রোগে আক্রান্ত বাবার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। বাবার মৃত্যুর পর ২০২৩ সালে দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জ্যাকম্যান জানান, ‘দ্য সন’ সিনেমায় অভিনয়ের সময় নিজের পারিবারিক স্মৃতি ও আবেগও ফিরে এসেছিল। এই অভিজ্ঞতায় মানসিক স্বাস্থ্য ও পারিবারিক সম্পর্ক নিয়ে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি বদলেছে। এ ছাড়া একাধিকবার ত্বকের ক্যানসার ধরা পড়েছে তাঁর। এ নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেছেন এবং নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহার ও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।

আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্বঅভিনয় ও গানের পাশাপাশি হিউ জ্যাকম্যানের আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্বও আলোচনায় এসেছে। ২০০৮ সালে পিপল ম্যাগাজিন তাঁকে ‘সেক্সিয়েস্ট ম্যান অ্যালাইভ’ নির্বাচিত করে। সে সময় তিনি উলভারিন চরিত্রের জন্য পরিচিত হলেও তাঁর গানের দক্ষতা, নাচ ও রসবোধও দর্শকদের নজর কেড়েছিল। খেতাবটি নিয়ে রসিকতা করে তিনি বলেছিলেন, জর্জ ক্লুনি, ব্র্যাড পিট ও ম্যাট ডেমনকে টেক্কা দিতে তাঁরা নাকি দীর্ঘদিন ধরে প্রচার চালিয়েছেন!

মনে রাখার মতো কিছু কথাজ্যাকম্যানের বক্তব্যের মধ্যে অনুপ্রেরণা জোগায় এমন একটি কথা হলো, ‘যদি কোনো কিছু তোমাকে ভয় পাইয়ে দেয়, তবে সেটিকে হ্যাঁ বলো।’ ভ্যানিটি ফেয়ার–এর প্রশ্নমালায় তিনি এ কথাকে নিজের জীবনদর্শনের সঙ্গে যুক্ত করেন। আরেকটি বক্তব্যে তিনি অভিনয়কে ভালোবাসার কাজ হিসেবে বর্ণনা করলেও মনে করিয়ে দিয়েছেন, অন্য পেশার মতো এটিও একটি কাজ—একে জীবনের সবকিছুর চেয়ে বড় করে দেখা উচিত নয়। ৫৮ বছরে পা দিয়ে হিউ জ্যাকম্যান তাই শুধু উলভারিন নন; তিনি মঞ্চের অভিনেতা, সংগীতশিল্পী, পুরস্কারজয়ী তারকা এবং ব্যর্থতা থেকে শেখার গল্প বলা এক মানুষ।

আয় কত?হলিউডে দীর্ঘ ক্যারিয়ারে জ্যাকম্যানের পারিশ্রমিকও বেড়েছে। আইএমডিবিতে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ‘দ্য গ্রেটেস্ট শোম্যান’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য তিনি ১০ মিলিয়ন ডলার পারিশ্রমিক পেয়েছিলেন। ‘লেস মিজারেবল’ সিনেমায় তাঁর পারিশ্রমিক ছিল পাঁচ মিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে সেলিব্রিটি নেট ওয়ার্থের হিসাব অনুযায়ী, জ্যাকম্যানের মোট সম্পদের পরিমাণ আনুমানিক ১৫০ মিলিয়ন ডলার।