রাজধানীর পুরানা পল্টন এলাকায় বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কার্যালয়ে এক আকস্মিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে এই হামলা চালানো হয় বলে জানা গেছে।
হামলার ঘটনায় ছাত্র ও যুব ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেছেন যে, স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এই আক্রমণটি চালিয়েছে। তবে বিএনপির পক্ষ থেকে এই অভিযোগটি সম্পূর্ণ অস্বীকার করা হয়েছে।
সিপিবি কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাজ্জাদ জহির চন্দন এই ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানান, একদল যুবক হঠাৎ করে তাদের কার্যালয়ে হামলা চালায়। এই ঘটনার জন্য তিনি সরাসরি বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের দায়ী করেছেন।
ঘটনার প্রেক্ষাপট সম্পর্কে তিনি জানান, ওইদিন সন্ধ্যায় ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি দীপক শীলকে পুলিশ আটক করে এবং পরবর্তীতে তাকে ছেড়ে দেয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়, যা পরবর্তীতে কার্যালয়ে হামলার রূপ নেয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাহীর শাহরিয়ার এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “আমাদের কার্যালয়ে হামলা করা হয়েছে। হামলাকারীরা স্থানীয় বিএনপি নেতা। সম্ভবত পল্টন থানা বিএনপি বা তাদের অন্য সহযোগী সংগঠনের লোকজনও থাকতে পারে।”
পুরানা পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুল ইসলাম এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করেছেন। তিনি জানান, ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি দীপক শীলকে আটকের পর ছেড়ে দেওয়া হলে তার সমর্থকেরা উল্লাস প্রকাশ করে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন। এই স্লোগান শুনে ক্ষুব্ধ হয়ে কয়েকজন ব্যক্তি কার্যালয়ে হামলা চালান।
ওসি আরও জানান, সিপিবির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে হামলাকারীদের মধ্যে কয়েকজন বিএনপির নেতাকর্মী ছিলেন। তবে বিএনপির নেতাকর্মীরা সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার জন্য পুলিশ বর্তমানে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে নিশ্চিত করেছেন ওসি আরিফুল ইসলাম।