ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) বর্জ্যবাহী গাড়িগুলো দায়িত্বপ্রাপ্ত চালকের পরিবর্তে অন্যদের দিয়ে চালানো এবং এই প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। মুক্তকণ্ঠ পত্রিকায় এই বিষয়ে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিয়েছে সংস্থাটি এবং একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। এই তিন সদস্যের তদন্ত কমিটিকে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর) করপোরেশনের সচিব মো. মশিউর রহমান খানের স্বাক্ষরিত একটি দপ্তর আদেশের মাধ্যমে এই কমিটির কথা জানানো হয়। উক্ত আদেশে গত ১৭ অক্টোবর মুক্তকণ্ঠতে প্রকাশিত ‘বেতন নেন চালক, ময়লার গাড়ি চালান অন্যরা, প্রাণ যায় মানুষের’ শীর্ষক প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আদেশে বলা হয়েছে, প্রকাশিত এই সংবাদের কারণে করপোরেশনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। তাই সংবাদটিতে উত্থাপিত বিষয়গুলো খতিয়ে দেখতে এবং তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য এই কমিটি গঠন করা হলো।

তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ডিএসসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিমকে। কমিটির বাকি দুই সদস্য হলেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আমিনুল ইসলাম এবং সাধারণ প্রশাসন শাখার সহকারী সচিব মুহম্মদ মোতালেব। এই কমিটি সংবাদে উঠে আসা প্রতিটি বিষয় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা ও তদন্ত করবে এবং এরপর প্রশাসকের কাছে সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দেবে।

মুক্তকণ্ঠের করা অনুসন্ধানে জানা গেছে, দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বর্জ্য পরিবহনের ২২টি গাড়ি দায়িত্বপ্রাপ্ত চালকের পরিবর্তে অন্যদের দিয়ে চালানো হচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এমন গাড়ির সংখ্যা অন্তত ৫৬টি। অভিযোগ উঠেছে যে, বরাদ্দপ্রাপ্ত চালকদের একটি অংশ নিজেদের গাড়ি না চালিয়েও নিয়মিত বেতন গ্রহণ করছেন। তাঁদের পরিবর্তে গাড়িগুলো চালাচ্ছেন তাঁদের নিয়োগ করা সহকারী অথবা বিভিন্ন বহিরাগত ব্যক্তি। এছাড়া বরাদ্দের জ্বালানির পুরো অংশ ব্যবহার না করে বাকি টাকার ভাগাভাগি করার মতো গুরুতর অভিযোগও সামনে এসেছে।

অনুসন্ধানে আরও দেখা গেছে, ২০১৭ সাল থেকে চলতি বছরের ৪ অক্টোবর পর্যন্ত দক্ষিণ সিটির ময়লার গাড়ির সাথে সংশ্লিষ্ট ১৬টি দুর্ঘটনায় অন্তত ১৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এই দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে অন্তত তিনটি ঘটনায় দেখা গেছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত চালকের পরিবর্তে অন্য ব্যক্তি গাড়িটি চালাচ্ছিলেন।

মুক্তকণ্ঠের ওই প্রতিবেদন তৈরির সময় ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আবদুস সালাম জানিয়েছিলেন, “সহকারীকে গাড়ি চালাতে দিলে সংশ্লিষ্ট চালকের পাশাপাশি তদারকির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”