দেশের সামগ্রিক উন্নতির জন্য কাউকে পিছিয়ে রাখা সম্ভব নয় বলে মনে করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম। তাঁর মতে, জাতীয় সমৃদ্ধির লক্ষ্যে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। সমাজের শান্তি বিনষ্টকারী ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যেতে হবে। সমাজে যারা অশান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে, তারা কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের নয়। তারা মানবতার শত্রু, মানুষের শত্রু। এসব অপশক্তিকে নির্মূল করেই সামনে এগিয়ে যেতে হবে।’
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই কথাগুলো বলেন। প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে মন্দিরের প্রধান ফটক এবং সীমানাপ্রাচীর নির্মাণকাজের ফলক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রশাসক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তিনি।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়ে আবদুস সালাম বলেন, ‘পূজায় আপনারা যেমন অসুরকে ধ্বংস করতে চান, আমরাও চাই সমাজের সব অসুরের বিনাশ হোক।’
পুরান ঢাকার নান্দনিকতা বৃদ্ধির বিষয়ে তিনি জানান, সিটি করপোরেশন কেবল ঢাকেশ্বরী মন্দিরকেই নয়, বরং পুরো এলাকার সৌন্দর্যবর্ধনে গুরুত্ব দিচ্ছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ঢাকেশ্বরী মন্দিরকে ভেতরে-বাইরে সুন্দর ও আকর্ষণীয় করে সাজানোর পাশাপাশি আদি ঢাকা ও পুরান ঢাকার সার্বিক সৌন্দর্যবর্ধনে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে সিটি করপোরেশন।’
আসন্ন পূজার আয়োজন এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বিস্তারিত জানান। তিনি বলেন, ‘নেতাকর্মীরা নির্দেশনা অনুযায়ী পূজার দিনগুলোতে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশে থাকবেন। ইতোমধ্যে প্রতিটি মন্দিরের আশপাশের রাস্তা সংস্কার, প্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থা পরিষ্কারের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য, সবাই যেন সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা উদ্যাপন করতে পারেন।’
ধর্মীয় সম্প্রীতি ও দীর্ঘ ছুটির বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এবার পূজায় দীর্ঘ ছুটির সুযোগে হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মের মানুষও নিজ নিজ বাড়িতে যেতে পারছেন। সমাজের প্রতিটি মানুষের মধ্যে সহনশীলতা ও পারস্পরিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে হবে।’
উক্ত ফলক উন্মোচন অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির ব্যবস্থাপনা কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।