পিএইচপি প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজের নিরাপত্তা ত্রুটির প্রভাবে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পর এবার সরকারি সেবা প্রদানের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম মাইগভের ওয়েবসাইট (mygov.bd) বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গতকাল রোববার রাত থেকে এই ওয়েবসাইটটি অচল হয়ে পড়ে। গতকাল থেকে একাধিকবার সাইটটিতে প্রবেশের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি এবং স্ক্রিনে ‘ওয়েব সার্ভার ইজ ডাউন’ বার্তাটি প্রদর্শিত হয়।

বিষয়টি নিয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে সরকারি ওয়েবসাইট রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা অ্যাসপায়ার টু ইনোভেটের (এটুআই) একজন কর্মকর্তা মুক্তকণ্ঠকে জানান, পিএইচপির সর্বশেষ নিরাপত্তা ত্রুটিগুলো সমাধান করার লক্ষ্যে ওয়েবসাইটের সংস্করণ হালনাগাদ করার প্রক্রিয়া চলছে। এই কারিগরি কাজের কারণেই মাইগভ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। নতুন সংস্করণে স্থানান্তরের পর সব সেবা সঠিকভাবে কাজ করছে কি না, তা যাচাই-বাছাই করতে হবে। এই পুরো প্রক্রিয়াটি কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন করা হচ্ছে।

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, মাইগভের অধীনে অসংখ্য ডোমেইন রয়েছে এবং সেগুলোকে একসঙ্গে হালনাগাদ করতে হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে যে, আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে ওয়েবসাইটটি পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে।

উল্লেখ্য, মাইগভের মাধ্যমে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের নাগরিক সেবা অনলাইনে প্রদান করা হয়। এর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হলো বিদেশগামী শিক্ষার্থী ও নাগরিকদের শিক্ষাগত সনদসহ বিভিন্ন সরকারি নথি সত্যায়নের ই-অ্যাপোস্টিল সেবা। এই সেবার ফলে নাগরিকরা ঘরে বসেই অনলাইনে নথি সত্যায়নের আবেদন করতে পারেন, যার ফলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে সরাসরি গিয়ে কাগজপত্র জমা দেওয়ার ঝামেলা অনেক কমে এসেছে।

এছাড়া সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের মোট ৪৪০টি সেবা এই প্ল্যাটফর্মে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মাইগভের ওয়েবসাইট ও অ্যাপের মাধ্যমে এসব সেবার জন্য আবেদন করা যায়। এটুআই সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন গড়ে পাঁচ থেকে ছয় হাজার মানুষ এই প্ল্যাটফর্ম থেকে সেবা গ্রহণ করেন। ফলে ওয়েবসাইটটি বন্ধ থাকায় এই বিপুল সংখ্যক মানুষ চরম ভোগান্তির সম্মুখীন হতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সম্প্রতি পিএইচপি প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজে নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে সরকারি ও বেসরকারি ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যেহেতু বহু ওয়েবসাইট ও অনলাইন সেবা পিএইচপি ব্যবহার করে পরিচালিত হয়, তাই বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ত্রুটির সুযোগ নিয়ে হামলাকারীরা সংশ্লিষ্ট সার্ভারে অননুমোদিতভাবে প্রবেশ করতে পারে অথবা ক্ষতিকর কোড চালাতে পারে।

পিএইচপির এই নিরাপত্তা ত্রুটির পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ওয়েবসাইট বন্ধের ঘটনা ঘটেছে। বাংলাদেশেও বেশ কিছু ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। এর মধ্যে ডিজিটাল ভূমিসেবার ওয়েবসাইটের পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংক, সরকারি ও বেসরকারি কয়েকটি ব্যাংক এবং বেসরকারি হাসপাতালসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট ছিল। এটুআই সূত্রমতে, শুরুতে মাইগভের ওয়েবসাইট সচল রেখেই হালনাগাদের কাজ শুরু করা হয়েছিল, তবে পরবর্তীতে কারিগরি জটিলতার কারণে এটি সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এদিকে মাইগভের ফেসবুক পেজে গতকাল একটি জরুরি ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, “জরুরি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ওয়েবসাইট বন্ধ রাখা হয়েছে। আজ রাত ১২টায় ওয়েবসাইট সচল করা হবে।”

এই পোস্টের কমেন্ট বক্সে অনেক ব্যবহারকারী তাঁদের চরম ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন। শামায়েল শামভীর নামের একজন লিখেছেন, ‘আপনারা কেন অনলাইন বাদে ম্যানুয়াল কোনো ব্যবস্থা রাখেননি? সবার হাতে কি সব সময় ৫–৮ কার্যদিবস সময় থাকে? এর মধ্যে আবার সার্ভারে সমস্যা করে রাখা হয়েছে, এখন জরুরি কাজটা কীভাবে করব?’

অন্যদিকে শাহরিয়ার অর্ণব নামের একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, তিনি ই-অ্যাপোস্টিলের জন্য নথি জমা দিয়েছেন এবং আগামীকালের মধ্যেই সেটি তাঁর প্রয়োজন। কারণ, তা জমা দিতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি এখন কী করবেন তা বুঝতে পারছেন না।