দীর্ঘ ৫৬ বছর অতিবাহিত হলেও মুছে যায়নি শৈশবের স্মৃতি আর প্রিয় বিদ্যালয়ের প্রতি টান। সেই আবেগের টানেই ভারতের কলকাতা থেকে ঝালকাঠিতে ছুটে এসেছেন তিন বন্ধু। ঝালকাঠির ঐতিহ্যবাহী উদ্বোধন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৮৫ বছর পূর্তি ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী উৎসবে যোগ দিতেই তাদের এই বিশেষ সফর।
গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে ‘এসো উদ্বোধন উল্লাসে মাতি সবে’ স্লোগানের মধ্য দিয়ে বিদ্যালয়টির ৮৫ বছর পূর্তি ও পুনর্মিলনী উৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করা হয়। এরপর একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে, যেখানে বিদ্যালয়ের নবীন ও প্রবীণ শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়। কলকাতা থেকে আসা তিন বন্ধুর পরিচয়— গৌর নিতাই সাহা, স্বপন দত্ত ও স্বপন বনিক।
দীর্ঘ বিরতির পর সহপাঠীদের সান্নিধ্যে এসে অনেকেই আড্ডা, হাসি-ঠাট্টা আর স্মৃতিচারণায় মেতে ওঠেন। পুরোনো বন্ধুদের এই মিলনমেলায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ এক আনন্দঘন পরিবেশে পরিণত হয়। প্রতিষ্ঠানের ৮৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে রাতে একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝালকাঠি-২ আসনের সংসদ সদস্য ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদা মিতু, ঝালকাঠি জেলা বিএনপির সদস্যসচিব ও জেলা পরিষদ প্রশাসক অ্যাডভোকেট শাহাদাৎ হোসেন, জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন এবং পুলিশ সুপার মেরিন সুলতানা।
কলকাতা থেকে আসা তিন বন্ধু মূলত বিদ্যালয়ের ১৯৭০ সালের এসএসসি ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থী। দীর্ঘ সময় পর পুরোনো সহপাঠীদের সঙ্গে দেখা হওয়া এবং স্মৃতিবিজড়িত বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে অংশ নিতে পেরে তারা অত্যন্ত আনন্দিত।
গৌর নিতাই সাহা বলেন, ‘৮৫ বছর পূর্তি ও শিক্ষার্থী পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ভারতের কলকাতা থেকে আমরা তিন বন্ধু ছুটে এসেছি। অনেক দিন পর বন্ধুদের কাছে পেলাম।’
স্বপন দত্ত বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর নিজের বিদ্যালয়ে ফিরে এসে খুবই ভালো লাগছে। স্কুলজীবনের বন্ধুদের সঙ্গে আবার দেখা হয়েছে, একসঙ্গে সময় কেটেছে—এটি আমাদের জন্য অনেক আনন্দের। এত বছর পরও বিদ্যালয়ের প্রতি টান একটুও কমেনি। এই পুনর্মিলনী আমাদের পুরোনো দিনের স্মৃতি নতুন করে মনে করিয়ে দিচ্ছে।’
স্বপন বনিক বলেন, ‘৫৬ বছর পর স্কুলের টানে কলকাতা থেকে ঝালকাঠিতে ছুটে এসেছি। এই বিদ্যালয়ে আমাদের জীবনের অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে। পুরোনো বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হওয়া, একসঙ্গে আড্ডা দেওয়া এবং বিদ্যালয়ের ৮৫ বছর পূর্তি উদ্যাপনে অংশ নিতে পেরে খুবই আনন্দিত। এই দিনটি আমাদের জীবনে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’
প্রধান অতিথি ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, ১৯৪০ সালে উদ্বোধন মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় এবং কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই বিদ্যালয়টির নামকরণ করেছিলেন। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে এবং শিক্ষা বিস্তারে আন্তরিক।