সাতক্ষীরার একটি আদালতে শুনানির এক পর্যায়ে পুলিশ কর্মকর্তাকে লক্ষ্য করে জুতা নিক্ষেপ করেছেন আসামি রেজাউল ইসলাম (৪৮)। সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম বিলাস মণ্ডলের আদালতে এই অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটে।

আসামি রেজাউল ইসলাম সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর গ্রামের মৃত বরকতুল্লাহর পুত্র।

ঘটনাটি সম্পর্কে সাতক্ষীরা আদালত পুলিশের পরিদর্শক নাজমুল হোসেন মুক্তকণ্ঠকে জানান, একটি নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর প্রক্রিয়ায় রেজাউল ইসলামকে জেলা কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়েছিল। উক্ত মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সদর থানার উপপরিদর্শক আব্দুল্লাহেল আরিফ নিশাত তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর অনুমতি চেয়ে আদালতের সামনে দাঁড়ান। তদন্ত কর্মকর্তা কাঠগড়া থেকে নামার পরপরই রেজাউল তাকে লক্ষ্য করে জুতা নিক্ষেপ করেন।

পুলিশ পরিদর্শক নাজমুল হোসেন আরও জানান, রেজাউলকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তবে আদালতে এ ধরনের অশোভন আচরণের জন্য বিচারক তার বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন কি না, তা পরবর্তীতে জানা যাবে।

এদিকে, ঘটনার পর রেজাউল ইসলাম দাবি করেন যে, তিনি গত আট-নয় মাস ধরে কারাগারে বন্দি রয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা দায়ের করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, এসব মামলার আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার মতো আর্থিক সামর্থ্য তার নেই।

আদালত চত্বরে কথা বলার সময় রেজাউল বলেন, “মিথ্যা মামলায় তিনি হয়রানির শিকার হচ্ছেন। জুতা নিক্ষেপের মাধ্যমে তিনি পুলিশি হয়রানির প্রতিবাদ জানিয়েছেন। আদালতকে অপমান করা তার উদ্দেশ্য ছিল না।”

আদালত পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন হত্যা, চুরি, ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও ছিনতাইসহ প্রায় ৩০টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

উল্লেখ্য যে, ২০২৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি রাতে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কুচপুকুরে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের কার্যালয় এবং দলীয় নেতা সাইফুল ইসলামের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়। সেই মামলায় রেজাউলকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। উক্ত মামলায় আওয়ামী লীগ নেতাসহ ৭৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৩৫ থেকে ১৪০ জনকে আসামি করা হয়েছে।