সন্দ্বীপ ফেরিঘাটে পন্টুনের র্যাম্প খুলে পানিতে পড়ে যাওয়ায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে যাত্রীদের মধ্যে। এই আকস্মিক ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে স্পিডবোট থেকে সরাসরি পানিতে ঝাঁপ দেন বেশ কয়েকজন যাত্রী।
ঘটনাটি ঘটে আজ সোমবার বেলা ১১টা ২০ মিনিটের দিকে। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, একটি ফেরি ঘাটে ভিড়ছিল। ঠিক সেই মুহূর্তে পন্টুনের র্যাম্পটি (ওঠানামার ধাতব পথ) খুলে গিয়ে প্রচণ্ড শব্দে পানির ওপর পড়ে যায়। যে স্থানে র্যাম্পটি পড়েছিল, তার ঠিক পাশেই ২৫ জন যাত্রী নিয়ে একটি স্পিডবোট অবস্থান করছিল। স্রোতের তোড়ে স্পিডবোটটি সামান্য কাত হয়ে উঠতেই আতঙ্কিত যাত্রীরা একে একে পানিতে ঝাঁপ দেন।
তবে স্বস্তির বিষয় এই যে, এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। পানিতে ঝাঁপ দেওয়া যাত্রীরা সাঁতারে সক্ষম হওয়ায় তারা নিরাপদে তীরে উঠতে সক্ষম হন। তবে র্যাম্পটি খুলে পড়ার কারণে ফেরি থেকে যানবাহন নামার পথ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ৯টি মোটরসাইকেলসহ মোট ২৩টি যানবাহন প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে ফেরিতেই আটকা পড়ে থাকে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এই ঘটনার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে বিভিন্ন বয়সী নারী ও পুরুষকে পানি থেকে তীরে উঠে আসতে দেখা যায়। ঘাটে উপস্থিত থাকা যাত্রী মো. শরীফ মুক্তকণ্ঠকে জানান, “ঘটনাটি ভয়াবহ ছিল। র্যাম্প খুলে পানিতে পড়ার পর স্পিডবোটটি কাত হয়ে যাচ্ছিল। আতঙ্কে যাত্রীরা পানিতে ঝাঁপ দেন।”
ঘাটে কর্মরত শ্রমিক ফিরোজ আলম (৩২) জানান, ফেরি পন্টুনে ভেড়ার সময় তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তার মতে, র্যাম্পটি আগে থেকেই নড়বড়ে হয়ে গিয়েছিল। ফেরি ভেড়ার সময় হঠাৎ সেটি খুলে পড়ে, যার ফলে তিন ঘণ্টা যানবাহন আটকে থাকে।
এদিকে ফেরির মাস্টার আমীর হোসেন কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কথা উল্লেখ করে বলেন, “গত এক সপ্তাহ ধরে পন্টুনের সঙ্গে র্যাম্পের সংযোগটি ভেঙে পড়ে আছে। আমরা বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তাদের বারবার জানিয়েছি। ত্রুটি না সারালে সংকট তৈরি হতে পারে, সে বিষয়েও সতর্ক করেছি। সময়মতো সংযোগটি ঠিক করলে এমন ঘটনা ঘটত না।”
এই অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে বিআইডব্লিউটিএর পোর্ট অফিসার নয়ন শীল মুক্তকণ্ঠকে বলেন, এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ সেলিম ভালো বলতে পারবেন। তবে পরবর্তীতে যুগ্ম পরিচালক মোহাম্মদ সেলিমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
নৌরুটের যাত্রী অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘আমরা সন্দ্বীপবাসী’র অন্যতম সমন্বয়কারী খাদেমুল ইসলাম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “যখনই কোনো দুর্ঘটনা ঘটে আমাদের জানানো হয় ফেরির যান্ত্রিক ত্রুটির কথা। অন্যদিকে বিআইডব্লিউটিএ এবং ফেরির মাস্টারকে পরস্পর দোষারোপ করতে দেখা যায়। আমরা এই ফেরিঘাটে দক্ষ মাস্টার ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের পদায়নের দাবি জানাই।”