লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার আমঝোল সীমান্ত এলাকায় একটি বন্য প্রাণীর আক্রমণে তিনজন মানুষ আহত হয়ে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। প্রাণীটিকে শনাক্ত ও উদ্ধারের লক্ষ্যে গতকাল রোববার সন্ধ্যা থেকে বিজিবি এবং বন বিভাগের একটি যৌথ দল নিরবচ্ছিন্ন তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে। তবে আজ সোমবার সকাল ১১টা পর্যন্ত প্রাণীটিকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

এই সংকটময় পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঢাকা থেকে বন্য প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ টিমের চার সদস্যের পাশাপাশি লালমনিরহাট, হাতীবান্ধা ও রংপুরের মোট ১১ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী রোববার সন্ধ্যা থেকে উত্তর আমঝোল এলাকায় সক্রিয় হয়ে কাজ করছেন। তাঁরা মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে লালমনিরহাট ১৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম আজ সকালে মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “বিজিবিও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।”

লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম আরও জানান, পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার অংশ হিসেবে গতকাল সন্ধ্যার আগে ও পরে আমঝোল সীমান্তের বাংলাদেশ অংশে বিজিবি ৪–৫টি ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এই পদক্ষেপের কথা আগে থেকেই ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার গোপালপুর ৭৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের কমান্ডারকে অবহিত করা হয়েছিল। স্থানীয় বাসিন্দারা আক্রান্ত হওয়ায় প্রয়োজন অনুযায়ী বিজিবি তাদের এলাকায় গুলি চালাতে পারে—এই বিষয়েও বিএসএফকে প্রয়োজনীয় তথ্য জানানো হয়।

গতকাল সন্ধ্যার পর থেকে রাতভর বন্য প্রাণীটিকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলে। এই অভিযানে শত শত স্থানীয় মানুষ টর্চ এবং মুঠোফোনের আলো নিয়ে এলাকায় অবস্থান করেন। বিজিবি আধুনিক প্রযুক্তির ড্রোন ব্যবহার করে প্রাণীটিকে শনাক্ত করার চেষ্টা করে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সতর্ক করতে এলাকায় মাইকিং করা হয়।

রোববার গভীর রাতে লালমনিরহাট ১৫ বিজিবির পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “২৫ অক্টোবর বিকেল আনুমানিক পাঁচটার দিকে বনচৌকি বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার উত্তর আমঝোলে সীমান্ত পিলার ৯০৫/১১ এস থেকে আনুমানিক ১০০ গজ বাংলাদেশের ভেতরে বাঘের আক্রমণে তিনজন আহত হন।”

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বিস্তারিত জানানো হয়, স্থানীয় বাসিন্দা শরিফা বেগম (৩০) তাঁর হারিয়ে যাওয়া ছাগল খুঁজতে ধানখেতের পাশের এলাকায় গেলে আকস্মিকভাবে একটি বাঘ তাঁকে আক্রমণ করে। তাঁর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত এগিয়ে এলে বাঘটির আক্রমণে আরও দুজন আহত হন।

যে স্থানে বাঘটি ছাগলের ওপর আক্রমণ করেছিল, সেই স্থানটি পরিদর্শন করে উদ্ধারকারী দল মৃত ছাগলের দেহের আঘাতের ধরন ও গভীরতা পর্যবেক্ষণ করেছে। প্রাথমিকভাবে প্রাণীটিকে চিতাবাঘ বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধানের কাজ অব্যাহত রয়েছে।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, খবর পাওয়ার পরপরই টহল দলের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে জনসাধারণের নিরাপত্তার স্বার্থে ফাঁকা গুলি ছোড়েন। এতেই বাঘটি ঘটনাস্থল ছেড়ে পাশের জঙ্গলে আশ্রয় নেয়।

প্রাণীটিকে নিরাপদে উদ্ধার করতে এবং পুনরায় লোকালয়ে প্রবেশের ঝুঁকি কমাতে লালমনিরহাট ১৫ বিজিবির অধিনায়ক জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বন বিভাগকে বিষয়টি অবহিত করেন। এরপরই বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেন।

লালমনিরহাট জেলা সামাজিক বনায়ন, নার্সারি ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনিসুর রহমান সোমবার দুপুরে মুঠোফোনে মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “যে স্থানে বাঘটিকে ছাগলের ওপর আক্রমণ করতে দেখা গেছে, সেই স্থান পরিদর্শন করে আক্রান্ত মৃত ছাগলের দেহে আঘাতের ধরন ও গভীরতা পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে প্রাণীটিকে চিতাবাঘ বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধানের কাজ চলছে।”