রাজধানীর সড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচল এবং চরম বিশৃঙ্খলার বিষয়টি ফুটিয়ে তুলতে একটি ব্যঙ্গাত্মক ওয়েব গেম তৈরি করেছেন সফটওয়্যার প্রকৌশলী ওমর ফারুক রিয়াদ। ‘বাপের রাস্তা’ নামক এই গেমটিতে খেলোয়াড়কে একজন অটোরিকশাচালকের ভূমিকায় অভিনয় করতে হয়। গেমে দেখা যায়, চালক অত্যন্ত বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালাচ্ছেন এবং পথচারী ও অন্যান্য যানবাহনে ধাক্কা দিচ্ছেন। এই প্রতিটি ধাক্কার সাথে সাথে গেমটিতে ‘জাতীয় ক্ষতি’র পয়েন্ট বাড়তে থাকে। তবে এই বেপরোয়া আচরণের পরিণতি হিসেবে একপর্যায়ে চালককে ক্ষুব্ধ জনতার তাড়া খেতে হয় এবং মারধরের মুখে পড়তে হয়।
গেমটি তৈরির প্রেক্ষাপট বর্ণনা করে রিয়াদ জানান, তিনি প্রতিদিন বাসা থেকে মহাখালী হয়ে মিরপুরের কর্মস্থলে যাতায়াত করেন। এই যাতায়াতের পথে অটোরিকশাচালকদের নানা ধরনের অনিয়ম ও বিশৃঙ্খল আচরণ প্রতিনিয়ত তার চোখে পড়ে। বাস্তব জীবনের এই তিক্ত অভিজ্ঞতাগুলো থেকেই গেমটি তৈরির পরিকল্পনা করেন তিনি। জাভাস্ক্রিপ্ট, এইচটিএমএল, সিএসএস এবং থ্রিডি প্রযুক্তির সমন্বয়ে প্রায় দুই সপ্তাহের পরিশ্রমে গেমটি প্রস্তুত করেন রিয়াদ। ব্যবহারকারীদের সুবিধার জন্য এটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যে, আলাদা কোনো অ্যাপ ইনস্টল করার প্রয়োজন নেই; সরাসরি ওয়েব ব্রাউজার থেকেই এটি খেলা সম্ভব।
গুগল অ্যানালিটিকসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার ও শনিবার মিলিয়ে এক লাখের বেশি মানুষ এই গেমটি খেলেছেন। গেমটিতে ঢাকার পরিচিত বিভিন্ন স্থাপনা, তীব্র যানজট, অবৈধভাবে ব্যাটারি চার্জিং এবং পুলিশের ‘চা-পানি’ নেওয়ার মতো সামাজিক বাস্তবতাকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া গেমে হর্ন বাজানোর পাশাপাশি কিছু বিশেষ ব্যঙ্গাত্মক সংলাপ ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। গেমের সমাপ্তিতে ‘দৈনিক যানজট’ নামের একটি কাল্পনিক সংবাদপত্রের পাতা প্রদর্শিত হয়।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগ থেকে পড়াশোনা করা রিয়াদ জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে তিনি এই গেমে মাল্টিপ্লেয়ার বা একাধিক খেলোয়াড়ের একসঙ্গে খেলার সুবিধা যুক্ত করার পরিকল্পনা করছেন।
তবে গেমটির একটি বিশেষ দিক নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষক সাজ্জাদ সিদ্দিকী। বিশেষ করে ক্ষুব্ধ জনতার হাতে অটোরিকশাচালকের মারধরের দৃশ্যটি নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। তার মতে, এ ধরনের দৃশ্য প্রদর্শনের ফলে সহিংসতা এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা সাধারণ মানুষের কাছে স্বাভাবিক হয়ে উঠতে পারে। তবে একই সাথে তিনি স্বীকার করেছেন যে, অটোরিকশার বিশৃঙ্খল চলাচলের কারণে সাধারণ মানুষের মনে যে তীব্র ক্ষোভ জমে আছে, তা এই গেমটিতে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।