পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) ক্রমবর্ধমান প্রভাবের সাথে তাল মিলিয়ে রাজ্যে নিজেদের সাংগঠনিক বিস্তার ঘটাচ্ছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)। কট্টর হিন্দুত্ববাদী এই সংগঠনটি তাদের আদর্শ প্রচার এবং প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্যে ধারাবাহিক ও বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গে সংঘের শাখার সংখ্যা ছিল মাত্র ৫৮০টি। তবে সময়ের পরিক্রমায় এই সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে। ২০২৪ সালের মে মাস পর্যন্ত রাজ্যে তাদের শাখার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় প্রায় ৫ হাজারে। এই সাংগঠনিক বিস্তারকে আরও গতিশীল করতে গত ১ অক্টোবর থেকে ১০ অক্টোবর (পুজোর মহালয়া পর্যন্ত) একটি বিশেষ ১০ দিনের জনসংযোগ অভিযান পরিচালনা করা হয়। আরএসএসের দক্ষিণবঙ্গের প্রচারপ্রধান বিপ্লব রায় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “এই নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে রাজ্যজুড়ে চালু করা সম্ভব হয়েছে আরও পাঁচ হাজারের বেশি নতুন শাখা। এর ফলে পুরো পশ্চিমবঙ্গে সংঘের শাখার সংখ্যা পৌঁছেছে প্রায় ১০ হাজারে”।

বিপ্লব রায়ের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, মাত্র কয়েক বছর আগেও পশ্চিমবঙ্গের যেসব এলাকায় সংঘের কোনো সাংগঠনিক ভিত্তি বা অস্তিত্ব ছিল না, বর্তমানে সেখানেও নতুন শাখা গড়ে তোলা হয়েছে। বর্তমানে প্রতিটি জেলায় গড়ে প্রায় ২০০টি করে শাখা সক্রিয় রয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনটিকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি নতুন শাখাগুলোর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এবং শাখাগুলোর কার্যক্রমকে আরও আকর্ষণীয় করতে রবিবার থেকে লক্ষ্মীপূজার পর সাত দিনের একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া দৈনন্দিন কর্মসূচির মধ্যে শারীরিক ব্যায়াম ও সূর্য নমস্কারের পাশাপাশি কাবাডি এবং লাঠি খেলার মতো ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় ক্রীড়া চর্চাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই উদ্যোগের ফলে সাধারণ মানুষ এবং বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সংগঠনের প্রতি আগ্রহ বাড়বে।

সংগঠনের পরিধি বৃদ্ধির সাথে সাথে অবকাঠামোগত সংস্কারেও গুরুত্ব দিচ্ছে আরএসএস। উত্তর কলকাতায় অবস্থিত তাদের ঐতিহ্যবাহী প্রধান দপ্তর কেশব ভবনে জায়গার স্বল্পতা দেখা দেওয়ায় নিউ টাউনে ‘কেশব স্মৃতি’ নামে একটি নতুন পাঁচতলা কার্যালয় স্থাপন করা হয়েছে। আগামী দিনে এই নতুন ভবনটিই হবে সংঘের মূল কেন্দ্র। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের এই সময়ে দেশপ্রেম ও সমাজসেবার বার্তা ছড়িয়ে দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে নিজেদের ভিত্তি ক্রমশ মজবুত করছে আরএসএস।