চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীর ছদ্মবেশ ধরে স্বর্ণালংকার চুরির অভিযোগে সাত নারীকে গ্রেপ্তার করেছে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ। এই অভিযানে চুরি হওয়া স্বর্ণালংকারের একটি অংশ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ।

রোববার (২৫ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হাসপাতালের বহির্বিভাগের টিকিট কাউন্টারের সামনে থেকে তাদের আটক করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া নারীদের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার ধরমণ্ডল এলাকার আমেনা খাতুন (২৫), সালমা ওরফে তানিয়া বেগম (২৫), অজুফা বেগম (২৫), হালিমা (৩০), শানজিলা ওরফে সাদিয়া (২৩), তাহমিনা আক্তার (২০) এবং সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার আমিনা খাতুন (৩৬)।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগের টিকিট কাউন্টারে চিকিৎসার জন্য আসা রোগীরা লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। ঠিক সেই সময়ে ১০ থেকে ১১ জন নারী রোগীর ছদ্মবেশে লাইনে এসে ভিড় ও ধাক্কাধাক্কির পরিস্থিতি তৈরি করেন। এই বিশৃঙ্খলার সুযোগ নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসা তিন নারীর গলা থেকে তিনটি স্বর্ণের চেইন চুরি করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, চুরি যাওয়া চেইনগুলোর মোট ওজন আনুমানিক ১৭ আনা ২ রতি ১ পয়েন্ট।

ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় দ্রুত পদক্ষেপ নেয় এবং ঘটনাস্থল থেকে সাত নারীকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ আরও জানিয়েছে, তাদের কাছ থেকে চুরি যাওয়া স্বর্ণালংকারের ৬ আনা ২ রতি ১ পয়েন্ট উদ্ধার করা হয়েছে।

জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল হালিম জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার নারীরা চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তার ভাষ্য, “তারা একটি পেশাদার চোর চক্রের সদস্য। দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে মেলা, হাটবাজার ও জনসমাগমে কৃত্রিম ভিড় সৃষ্টি করে টাকা-পয়সা, স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি করে আসছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক চুরির মামলা রয়েছে।”

ওসি আরও জানান, “এ ঘটনায় জোরারগঞ্জ থানায় একটি নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তার নারীদের আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।”