চাঁদাবাজির মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর কর্মসংস্থান হয়েছে বলে দাবি করেছেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে এনসিপির মেয়রপ্রার্থী আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

রোববার (২৫ অক্টোবর) রাজধানীর মিরপুর ১০ গোলচত্বরে আয়োজিত একটি সংক্ষিপ্ত পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি, জ্বালানি সংকট এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে আগামী ৩০ অক্টোবরের বিক্ষোভ মিছিলকে সফল করার লক্ষ্যে এনসিপির ঢাকা মহানগর উত্তর শাখা এই পথসভা ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করে।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি অভিযোগ করেন, সরকারের একটি অংশ লুটপাটে মগ্ন রয়েছে। অন্যদিকে, সরকারের অন্য অংশ ক্যামেরার সামনে অভিযান চালানোর নাটক করলেও পরবর্তীতে অভিযুক্তদের সঙ্গে গোপন সমঝোতা করে যাচ্ছে। এই নেতা প্রধানমন্ত্রীর একজন ব্যক্তিগত কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়েও গভীর সন্দেহ প্রকাশ করেন।

আসিফ মাহমুদ বলেন, “একসময় চাঁদাবাজি নির্দিষ্ট কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বা মার্কেটে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন তা গ্রামগঞ্জের অলি-গলি ও পাড়া-মহল্লায় ছড়িয়ে পড়েছে। এমনকি মহিষের ঘাস খাওয়ানো ও পুকুরে মাছের খাবার দেওয়ার মতো বিষয়েও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠছে। চাঁদাবাজির মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট দলের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর কর্মসংস্থান হয়েছে।”

একই পথসভায় এনসিপির সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেন, সরকার কোনোভাবেই সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে পারছে না। তিনি উল্লেখ করেন, এরই মধ্যে বাংলাদেশের গণতন্ত্র, বিচার বিভাগ, নির্বাচন, সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় কাঠামো নিয়ে এক ধরনের গভীর ষড়যন্ত্র তৈরি হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছেন বলে অভিযোগ করে আখতার হোসেন বলেন, “এখন তিনি সংবিধান রক্ষার নামে তৎপরতা চালাচ্ছেন। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, জনগণের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ এই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনগণের বিপক্ষে গিয়ে ফ্যাসিবাদী সংবিধান রক্ষা করতেও ব্যর্থ হবেন।”

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য সারোয়ার তুষার বলেন, বর্তমান সরকার মিরপুর এলাকাটিকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর অভয়ারণ্যে পরিণত করেছে। বিভিন্ন সন্ত্রাসী চক্রের তৎপরতায় স্থানীয় মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন ভাঙচুরের ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী এবং জড়িত ব্যক্তিদের আড়াল করার অভিযোগও তোলেন তিনি।

তার দাবি, এ ঘটনায় একজন সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যকে পদত্যাগ করতে হলেও অভিযুক্ত একজন প্রতিমন্ত্রী, একজন উপদেষ্টা ও আরেক নারী সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমনকি অভিযুক্ত সন্ত্রাসীদেরও গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে তিনি জানান।

সারোয়ার তুষার আরও অভিযোগ করেন, সংবিধান সংশোধন কমিটির মাধ্যমে আগামী নির্বাচনে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে কারসাজি এবং নির্বাচন প্রভাবিত করার পরিকল্পনা করছে সরকার।

তিনি বলেন, “বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একটা একদলীয় বাকশালী সংবিধান সংশোধন কমিটি করার মধ্য দিয়ে আগামী নির্বাচনে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার মধ্যে ইঞ্জিনিয়ারিং করার পরিকল্পনা করছেন। আগামী নির্বাচন তিনি কারচুপি করার নীল নকশা এখন থেকেই করে যাচ্ছেন।”

উক্ত পথসভায় আরও বক্তব্য রাখেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব, রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য সালেহ উদ্দিন সিফাত, নুসরাত তাবাসসুম এবং অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।