জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) আলোচিত বিএনপিপন্থি অধ্যাপক ড. শামীমা সুলতানাকে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। চব্বিশের কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি নিজের কার্যালয় থেকে সরিয়ে ফেলতে বলে তিনি ব্যাপক আলোচনায় এসেছিলেন।

রোববার (২৫ অক্টোবর) রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই নিয়োগের কথা জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, সংবিধানের ১৩৮(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ড. শামীমা সুলতানাকে অন্য যে কোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান/সংগঠন-এর সাথে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে জনস্বার্থে সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্য পদে সানুগ্রহ নিয়োগ প্রদান করলেন।

সংবিধানের ১৩৯(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, তিনি দায়িত্বভার গ্রহণের তারিখ থেকে পাঁচ বছর অথবা তার বয়স ৬৫ বছর পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত—এই দুই সময়ের মধ্যে যেটি আগে ঘটবে, সেই সময় পর্যন্ত সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্য পদে বহাল থাকবেন।

এর আগে ২০২৪ সালে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালীন সময়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, হত্যা, নির্যাতন ও আটকের ঘটনায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দায়ী করে তিনি নিজের কার্যালয় থেকে তাঁর ছবি সরিয়ে ফেলার কথা বলে আলোচনায় আসেন।

অধ্যাপক ড. শামীমা সুলতানা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) বাংলা বিভাগের তৎকালীন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর অফিস কক্ষে বসার একটি ছবি ভাইরাল হয়।

সেই ভাইরাল হওয়া ছবিতে দেখা যায়, ড. শামীমা সুলতানার পেছনের দেয়ালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি টাঙানো থাকলেও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কোনো ছবি সেখানে ছিল না। গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, ১ আগস্ট তিনি শেখ হাসিনার ছবি সরিয়ে ফেলেন।

উল্লেখ্য, ড. শামীমা সুলতানা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।