প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন জাপান সফরে সফরসঙ্গী হিসেবে যুক্ত হয়েছেন হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী।
রোববার (২৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মুক্তকণ্ঠের সঙ্গে আলাপকালে মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আজ মধ্যরাতে ১২টা ১০ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে টোকিওর উদ্দেশ্যে ঢাকা থেকে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী। জাপানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা, বিনিয়োগের পরিমাণ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার পরিধি বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে চার দিনের এই সরকারি সফর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
হেফাজত সংশ্লিষ্ট নেতাদের সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে আলেম প্রতিনিধিদের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছিল। সেই প্রেক্ষিতে আলেম প্রতিনিধি হিসেবে মাওলানা আজিজুল হক এই সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গী হচ্ছেন। হেফাজত নেতারা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এই সফরের পেছনে বিএনপিঘনিষ্ঠতা বা কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই।
বিষয়টি নিয়ে আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলেম প্রতিনিধি হিসেবে সফরে যাওয়াটা আনন্দের। আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি। কোনো এজেন্টা বাস্তবায়ন বা বিএনপির সঙ্গে লিয়াজোঁ করে যাচ্ছি না। হেফাজতে ইসলাম সবসময় অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলে। হেফাজত ইসলাম ও দেশের পক্ষে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দলকে সুবিধা প্রদান করা হেফাজতে ইসলামের লক্ষ্য নয়।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরসঙ্গী হিসেবে আরও থাকছেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মো. শাকিরুল ইসলাম খান। এছাড়া সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা ও মিডিয়া টিমও এই সফরে অংশ নেবেন।
সফরের মূল লক্ষ্য হিসেবে দুই দেশের বর্তমান সহযোগিতার বিষয়টি পর্যালোচনা এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনার কথা রয়েছে। এছাড়া জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরামে প্রধানমন্ত্রী মূল বক্তব্য প্রদান করবেন এবং জাপানের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে।
সফরের বিস্তারিত কর্মসূচিতে জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা জাইকা, জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন (জেট্রো), জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন (জেবিআইসি) এবং সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি এলএনজি টার্মিনাল, বিদ্যুৎকেন্দ্র, ইউনিক্লোর সদরদপ্তর ও টয়োটার কারখানা পরিদর্শনের পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁর কর্মসূচিতে।
বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগের হার বাড়ানো, নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন দ্রুত করার বিষয়টি এই সফরের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় হবে। একই সঙ্গে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্বাক্ষরিত বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) বাস্তবায়নের বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে। আশা করা হচ্ছে, এই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী হবে।