জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় এক শিশুকে ধর্ষণের দায়ে এক ইমামকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুরে জামালপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত–১–এর বিচারক মুহাম্মদ আবদুর রহিম এই রায় ঘোষণা করেন।
আদালতের রায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম মো. মুছা মিয়া (৩৩)। তিনি গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার হরিচণ্ডি গ্রামের বাসিন্দা। ২০২০ সালে আলোচিত এই ঘটনাটি যখন ঘটে, তখন তিনি দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার একটি গ্রামের মসজিদের ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। আজকের রায় ঘোষণার সময় আসামি মুছা মিয়া আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মামলার নথি এবং আদালত সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় ভুক্তভোগী শিশুটির বয়স ছিল ১৫ বছর। সে প্রতিদিন সকালে ওই মসজিদে আরবি পড়তে যেত। ইমাম প্রায়ই অন্য শিশুদের ছুটি দিয়ে তাকে রেখে দিতেন এবং তাকে দিয়ে মসজিদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করাতেন। একপর্যায়ে তিনি শিশুটিকে বিয়ের প্রলোভন দেখান। ২০২০ সালের ২৮ নভেম্বর অন্যদিনের মতো অন্য শিশুদের ছুটি দিয়ে ভুক্তভোগী শিশুকে রেখে দেন ইমাম। এরপর তিনি শিশুটিকে ধর্ষণ করেন এবং ঘটনাটি কাউকে জানাতে নিষেধ করেন। একই বছরের ১ ও ২ ডিসেম্বর আবারও শিশুটিকে তিনি ধর্ষণ করেন।
শিশুটির আচরণ এবং মানসিক অবস্থার পরিবর্তন লক্ষ্য করেন পরিবারের সদস্যরা। পরবর্তীতে সে পরিবারের কাছে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ জানায়। পরিবার বিষয়টি গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবহিত করে। তাঁদের পরামর্শ অনুযায়ী শিশুর মা বাদী হয়ে ২০২০ সালের ৮ ডিসেম্বর দেওয়ানগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন।
জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত–১–এর সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) ফজলুল হক মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “মামলায় ভুক্তভোগী শিশুসহ ১০ জনের সাক্ষ্য নিয়েছেন আদালত। শুনানিতে অভিযোগ প্রমাণিত হয়। পরে আদালত আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করেন।”
আদালত আরও নির্দেশ দিয়েছেন যে, জরিমানার টাকা শিশুটির পরিবারকে প্রদান করতে হবে। রায়ের পরপরই আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।