আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত করার বিষয়ে রাজনৈতিক পর্যায়ে সমঝোতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। আজ রোববার দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের করা বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এই তথ্য জানান।

সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনরায় ফিরিয়ে আনতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি জানান, আইনসভার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন এবং সংবিধান সংশোধনের পথেই এই ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হবে। বিএনপির আন্দোলন মূলত তত্ত্বাবধায়ক সরকারপদ্ধতি পুনঃপ্রবর্তনের লক্ষ্যেই ছিল বলে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সরকার সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে এটি পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবে।

ধর্মীয় সম্প্রীতির বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে অনেক বছর পর শান্তিপূর্ণভাবে, সম্প্রীতির সাথে সনাতন ধর্মাবলম্বী ভাই-বোনদের দুর্গাপূজা উদ্‌যাপন হয়েছে। আমরা ধর্মীয় সম্প্রীতির একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পেরেছি।’

শারদীয় দুর্গোৎসবকে উৎসবমুখর ও নিরাপদ রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করায় বাংলাদেশ পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা, সাংবাদিক এবং সাধারণ জনগণকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আজকে থ্যাংকস গিভিং ডে। সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। বাংলাদেশে অনেক বছর পরে শান্তিপূর্ণভাবে উৎসাহ–উদ্দীপনায় নিরাপদে সম্প্রীতির সঙ্গে আমাদের সনাতন ধর্মাবলম্বী ভাই–বোনদের দুর্গাপূজার উদ্‌যাপন হয়েছে শারদীয় দুর্গা এই উৎসবে উৎসবমুখর করার জন্য এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য যারা কাজ করেছেন বাংলাদেশ পুলিশ বিজিবি বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী এসআরবি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা সাংবাদিক বন্ধুরা। এ দেশের সব স্তরের জনগণ সবাইকে আমরা সরকারের তরফ থেকে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি, কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি, আমরা ধর্মীয় সম্প্রীতির একটা উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পেরেছি, আমি কারও সমালোচনা করব না, অতীতে বিগত ১৫–১৭ বছরে এই দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে অনেক রকমের দুর্ঘটনা হয়েছে, ঘটনা হয়েছে, সন্ত্রাসী কার্যক্রম হয়েছে এবং ধর্মীয় সংস্কৃতি বিনষ্টের মতো অনেক ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে আমাদের ধারণা। এসব অপসংস্কৃতি থেকে আমরা মুক্ত হতে পেরেছি, আশা করি সামনের দিনেও সে রকম পরিবেশ বজায় রাখতে পারব।”

দেশের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, ফ্যাসিবাদী শক্তির অপপ্রয়াস শুরু থেকেই ছিল। তারা বাংলাদেশে অস্থিরতা তৈরি করতে চায় এবং ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার কৌশল অবলম্বন করছে। তবে সরকার কোনো অপশক্তি বা ফ্যাসিস্টদের ছাড় দেবে না বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ সম্পর্কে সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, তাকে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে ভারতের সাথে বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কয়েক দফা অনুরোধপত্র পাঠানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ভারত সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

পার্বত্য অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সেখানে পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে পাহাড়ে কয়েকটি সশস্ত্র ও রাজনৈতিক গোষ্ঠীর মধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব বিদ্যমান। পর্যটন মৌসুমকে কেন্দ্র করে কিছু এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করা হয়, যা মোকাবিলায় সেনাবাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, গোপালগঞ্জের একটি ইউনিয়নে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা-কর্মীর মিছিল করার চেষ্টা এবং পুলিশের ওপর হামলার ঘটনাটি সরকারের নজরে এসেছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ভিডিও ফুটেজ দেখে অপরাধীদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।