শরতের আগমনে মফস্সলের প্রকৃতি এক অনন্য রূপ ধারণ করে। এই ঋতুতে মফস্সলের প্রাণস্পন্দন ধরে রাখতে যেটুকু শরতের ছোঁয়া প্রয়োজন, তার সন্ধানে ঝাঁকে ঝাঁকে পর্যটক ও ভ্রমণকারী ছুটে আসেন। তারা অত্যন্ত হালকা মেজাজে ঘুরে বেড়ান এবং প্রকৃতির রেণু ও রঞ্জকের মাঝে নিজেদের হারিয়ে ফেলেন। অনেক সময় দেখা যায়, শহরের দেয়ালচিত্র বা গ্রাফিতির বিবর্তনে ফুটে ওঠা বিভিন্ন সমাজচিত্রকে ক্যামেরাবন্দি করতে তারা ব্যস্ত হয়ে পড়েন।
স্মৃতির পাতায় ভেসে ওঠে এক বিশেষ অনুভূতি। বলা হয়ে থাকে, শরতের সময়ে সকল জানালা খোলা রাখা প্রয়োজন। কারণ, আত্মগোপনকারী কিংবা ছদ্মবেশী বিপ্লবীদের চিনতে হলে বহুবার পড়তে হয় ‘পথের দাবী’।
সুগঠিত এই শরতের দিনে বীজগণিতের জটিল জ্ঞান কিংবা সূক্ষ্ম যুক্তিগুলো দূরে সরিয়ে রেখে, ঘটনার রেখার বাইরে গিয়ে শরতের সাতকাহন খুঁজে পাওয়া যায়। বাতাসের সাথে ভেসে আসে এক স্বতন্ত্র হাসি, যে হাসিতে যেন হসন্তের ভয়ে এক ধরণের কম্পন অনুভূত হয়। সুখ, দুঃখ এবং আশা-আকাঙ্ক্ষার এক অদ্ভুত দোলাচলের মাঝে জগদ্দল করা নৈরাশ্য নিয়ে কেউ হয়তো দুর্গম কাশবনে পড়ে থাকে। সেই বাজেয়াপ্ত ঋতুর প্রসঙ্গ টেনে তারা কেবল একটিই প্রশ্ন করতে চায়— “পৃথিবীতে এমন বাড়ি কী আছে,যার চারদিকের দেয়ালের প্রতিটি জানালাই দক্ষিণমুখী?”