ঝিনাইদহে এক নারীর ঘরে ঢুকে তাঁর মাথার চুল কেটে দেওয়া এবং শরীরে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এই ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি আন্না খাতুনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ শনিবার দুপুরে হরিণাকুণ্ডু এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করা হয়।
জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) শেখ বিল্লাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, “মামলার পর থেকে আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। দুপুরে হরিণাকুণ্ডু থেকে মামলার ১ নম্বর আসামি আন্না খাতুনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অন্য আসামিদেরও দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে।”
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার একটি গ্রামে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওই নারীর (৪০) বাড়িতে প্রবেশ করে হামলাকারীরা তাঁর মাথার চুল কেটে দেয় এবং শরীরে মরিচের গুঁড়া লাগিয়ে নির্যাতন চালায়।
পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, ওই গ্রামের আনোয়ার হোসেন নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে ভুক্তভোগী নারীর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগ তোলা হয়। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই আনোয়ারের স্ত্রী আন্না খাতুন, তাঁর দুই মেয়ে এবং ছেলে এই নৃশংস ঘটনার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করেন। এছাড়া আবদুর রশিদ নামের এক ব্যক্তি তাঁদের এই কাজে সহায়তা করেন বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী নারী এই ঘটনায় আন্না খাতুনকে প্রধান আসামি করে মোট পাঁচজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার পর থেকেই অভিযুক্তরা আত্মগোপনে চলে যান। এই অমানবিক নির্যাতনের খবরটি ঝিনাইদহে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি করে। অবশেষে আজ দুপুরে হরিণাকুণ্ডু এলাকা থেকে প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।
ভুক্তভোগী নারীর দাবি, তাঁরা অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের সদস্য। তাঁর স্বামী ইজিবাইক চালিয়ে সংসার চালান এবং একমাত্র ছেলে স্থানীয় একটি সেলুনে কাজ করেন। সম্প্রতি তাঁরা নিজেদের এক খণ্ড জমি বিক্রি করে বাড়িতে একটি পাকা ঘর তৈরি করছেন। কিন্তু আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী ও সন্তানরা সন্দেহ করেন যে, ঘর তৈরির জন্য আনোয়ার টাকা দিয়েছেন। এই সন্দেহের বশেই তাঁরা পরিকল্পিতভাবে এই পাশবিক নির্যাতন চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ওই নারী।