দেশের সকল বাণিজ্যিক ব্যাংকের সাপ্তাহিক ছুটির মেয়াদ কমিয়ে এক দিনে নামিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি। আজ শনিবার গণমাধ্যমে প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই দাবি জানানো হয়, যেখানে সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিনের স্বাক্ষর রয়েছে।
সমিতির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, ব্যবসায়ীদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সম্ভাব্য ক্ষতি রোধ করতে কোনোভাবেই দেশকে দীর্ঘ ছুটির ফাঁদে ফেলা যাবে না। তারা যুক্তি দেখিয়েছেন যে, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, থানা ও হাসপাতালের মতো জরুরি সেবাগুলো যেভাবে বন্ধ রাখা সম্ভব হয় না, ঠিক তেমনি ব্যাংকিং সেবাকেও এক দিনের বেশি বন্ধ রাখা উচিত নয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অভিযোগ করা হয়েছে যে, বিভিন্ন অজুহাত ও সুযোগের সুযোগ নিয়ে শুক্রবার ও শনিবারের নিয়মিত সাপ্তাহিক ছুটির পাশাপাশি অতিরিক্ত একদিন ছুটি দেওয়া হয়। অথবা ছুটির দিন খোলা রেখে বিশেষ করে বৃহস্পতিবার ও রোববার বন্ধ রেখে দীর্ঘ ছুটির পরিকল্পনা করা হয়, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক গতিবিধির জন্য ক্ষতিকর।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ‘ব্যাংক একটি আর্থিক সেবামূলক খাত। দুই দিন সাপ্তাহিক ছুটি, সেই সঙ্গে ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা, পূজা, বড়দিনসহ বিভিন্ন পার্বনে সরকারি ছুটি ও সরকারি অন্যান্য ছুটিসহ বছরে ১২০-১৩০ দিন বন্ধ থাকার কারণে আমরা ব্যাংকিং লেনদেনে ভীষণভাবে বাধাগ্রস্ত হই। সাধারণভাবে আমাদের ১৪-১৫ শতাংশ ব্যাংক সুদ গুনতে হয়। কিন্তু লম্বা ছুটি থাকার কারণে এই সুদ বেড়ে ২৫-৩০ শতাংশে দাঁড়ায়।’
দোকান মালিক সমিতি আরও বলে যে, বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পৌঁছাতে ৫-৬ ঘণ্টার বেশি সময় লাগে না। এমতাবস্থায় দেশকে কেন এই ছুটির ফাঁদে ফেলা হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তারা। দীর্ঘ ছুটির কারণে পর্যটন, জ্বালানি, হোটেল-রেস্তোরাঁসহ অন্যান্য খুচরা ও পাইকারি খাতের ব্যবসায়ীদের লাখ-কোটি টাকার লেনদেন নিয়ে চরম সংকটে পড়তে হয়। কারণ ৫ থেকে ৭ দিনের দীর্ঘ ছুটিতে হাজার হাজার কোটি টাকার লেনদেন সম্পন্ন হয়। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ঘরে বা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে রাখা নিরাপদ নয়, ফলে ব্যবসায়ীদের জানমাল নিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় দিনরাত কাটাতে হয়। এছাড়া দীর্ঘ ছুটির সুযোগ নিয়ে চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়, যার ফলে ব্যবসায়ীরা ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন।