ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য অরুণাচল প্রদেশের আপার সিয়াং এলাকায় বাঁধকেন্দ্রিক একটি বহুমুখী প্রকল্পের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের তীব্র আন্দোলন দানা বেঁধেছে। এই উত্তেজনা প্রশমনে চীন সীমান্তবর্তী আপার সিয়াং অঞ্চলে পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনী মোতায়েন করেছে রাজ্যের বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার।
গত শুক্রবার যৌথ নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সাধারণ মানুষের মধ্যে কয়েক দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিক্ষোভকারীদের দাবি, আপার সিয়াং প্রকল্পের বিরুদ্ধে চলা এই সংঘর্ষে অন্তত ছয়জন নারী গুরুতর আহত হয়েছেন। তবে নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তাদের দাবি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তারা কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়তে বাধ্য হয়েছেন।
গত ২৩ অক্টোবর সিয়াং অঞ্চলের আন্দোলনকারী সংগঠনগুলোর ডাকে ১২ ঘণ্টার ধর্মঘটের কর্মসূচি পালিত হয়। এই বন্ধের প্রভাব সিয়াং, আপার সিয়াং ও ইস্ট সিয়াং জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় স্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, পুলিশের ছোড়া কাঁদানে গ্যাসের ক্যানিস্টার সরাসরি অনেক বিক্ষোভকারীর শরীরে আছড়ে পড়ে, যার ফলে অনেকে তীব্র শ্বাসকষ্টে ভোগেন।
আদি বানে কেবাং এবং সিয়াং ইন্ডিজেনাস ফার্মার্স ফোরামের যুব শাখা সহ ওই অঞ্চলের একাধিক আদিবাসী সংগঠন যৌথভাবে এই ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিল। আন্দোলনকারীদের প্রধানত চারটি দাবি রয়েছে—গ্রেপ্তার করা ১০ জন আন্দোলনকারীকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে, বরখাস্ত করা গাওঁ বুড়াদের পুনরায় নিয়োগ করতে হবে, বাঁধের আগাম সমীক্ষার যাবতীয় কাজ বন্ধ করতে হবে এবং এলাকা থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সব সদস্যকে সরিয়ে নিতে হবে। আজ শনিবারও ওই এলাকায় পরিস্থিতি অত্যন্ত থমথমে বিরাজ করছে।
অন্যদিকে, পুলিশ প্রশাসনের দাবি ভিন্ন। সিয়াংয়ের পুলিশ সুপার কামদাম সিকম জানান, “সকালে ১৫০ থেকে ২০০ বিক্ষোভকারী ডিটে-ডাইমে এলাকায় জড়ো হয়েছিলেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে তাঁদের সরাতে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করতে বাধ্য হয়।”
একই ধরনের সংঘাতের খবর পাওয়া গেছে অরুণাচল প্রদেশের পাসিঘাট এলাকা থেকেও। সেখানে বাঁধবিরোধী যুব বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে। এই গোলমালের সময় পুলিশের বেশ কয়েকটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, আন্দোলনকারীরা বক্তব্য দেওয়ার সময়ই তাদের ওপর কাঁদানে গ্যাস ছোড়া হচ্ছে।
পুলিশের এই কঠোর পদক্ষেপের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে অরুণাচল প্রদেশ কংগ্রেস কমিটি। তারা পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের বিষয়ে একটি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলেছে।
কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মেগা বাঁধ ইস্যুতে রাজ্য সরকার যেভাবে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ দমন করার চেষ্টা করছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কংগ্রেস নেতারা মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, গ্রেপ্তার হওয়া তরুণদের মুক্তি এবং সমীক্ষার কাজ বন্ধের বিষয়ে আগে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়ায় সাধারণ মানুষের ক্ষোভ আরও বাড়ছে।
কংগ্রেস আরও বলেছে, “মুখ্যমন্ত্রীকে সরকারি পদক্ষেপের জবাব দিতে হবে। বলপ্রয়োগ করে কখনো মানুষের সম্মতি পাওয়া যায় না। আদিবাসী সংগঠন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও প্রবীণ মানুষের সঙ্গে অবিলম্বে সরকারকে আলোচনায় বসতে হবে। সেই সঙ্গে আহত ব্যক্তিদের দ্রুত চিকিৎসা দিতে হবে।”