বল পায়ে সেই ভুবনভোলানো হাসি আবারও দেখা যাবে ফুটবল মাঠে! দীর্ঘ বিরতির পর প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কিংবদন্তি রোনালদিনহো।

২০১৮ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ফুটবল ক্যারিয়ার থেকে অবসর নিলেও এর মাঝে বিভিন্ন প্রদর্শনী ম্যাচে তাকে দেখা গেছে। বিশ্বের নানা প্রান্তে প্রীতি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। তবে এবার আর প্রীতি ম্যাচ নয়, বরং প্রতিযোগিতামূলক লড়াইয়েই ফিরছেন ৪৬ বছর বয়সী এই তারকা।

ইতালির তৃতীয় স্তরের ফুটবল দল রাভেন্নার হয়ে আগামী মাসে মাঠে নামবেন রোনালদিনহো। আগামী ১৫ নভেম্বর স্থানীয় প্রতিদ্বন্দ্বী দল ফোরলির বিপক্ষে ম্যাচে খেলতে নামবেন সাবেক এই মিডফিল্ডার। গতকাল সিরি সি-এর দল রাভেন্না আনুষ্ঠানিকভাবে এই খবরটি নিশ্চিত করেছে।

গত জুন মাসে সবাইকে চমকে দিয়ে রাভেন্নার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন রোনালদিনহো, যদিও এতদিন তিনি দলটির হয়ে কোনো ম্যাচে অংশ নেননি। ২০০২ সালে ব্রাজিলের হয়ে বিশ্বকাপ জয়ী এই তারকা বার্সেলোনার হয়ে লা লিগা ও চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের পাশাপাশি এসি মিলানের হয়ে সিরি আ শিরোপা জিতেছেন। সর্বকালের অন্যতম সেরা অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হিসেবে পরিচিত রোনালদিনহো সর্বশেষ ২০১৫ সালে ফ্লুমিনেন্সের হয়ে প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল খেলেছিলেন। এরপর তিন বছর পর তিনি ফুটবল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবসর গ্রহণ করেন।

রাভেন্নার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি বন্ধু ইগনাজিও চিপ্রিয়ানির মালিকানাধীন এই ক্লাবের কিছু শেয়ারও কিনেছেন এই কিংবদন্তি। বিশ্বজুড়ে রোনালদিনহোর আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়েই সম্ভবত রাভেন্না এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রোনালদিনহোকে দলে ভেড়ানোর পর চিপ্রিয়ানি বলেছিলেন, এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হলো ‘পুরো শহরকে দলের আরও কাছাকাছি নিয়ে আসা’।

গত আগস্টে ইতালিতে পৌঁছানোর পর তিনি ক্লাবটির হয়ে খেলবেন কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত কথা বলেননি। তবে ক্যারিয়ারে ৩০০তম গোল করার সম্ভাবনা জিইয়ে রেখে রাভেন্নাকে বলেছিলেন, ‘আমি সাহায্য করতে এসেছি।’

গতকাল রাভেন্নার এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘এটি এমন একটি আয়োজন, যা পুরো দুনিয়ার নজর কেড়ে নেবে স্তাদিও ব্রুনো বেনেলির (রাভেন্নার মাঠ) দিকে। পুরো ফুটবল–বিশ্ব ভেবেছিল এটা সত্যি তো! তবে আমরা এখন আনুষ্ঠানিকভাবে একটি দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের ঘোষণা দিতে পারি: সেই জাদুকরি মুহূর্ত, সেই হাসি এবং এমন এক প্রতিভার প্রত্যাবর্তন, যা দলীয় আনুগত্য বা ক্লাবপ্রীতির সীমানা ছাড়িয়ে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরের সমর্থকদের বিমোহিত করেছে।’

রেস্তোরাঁ ব্র্যান্ডের মালিক ইগনাজিও চিপ্রিয়ানি বর্তমানে ক্লাবটি পরিচালনা করছেন। রোনালদিনহোর জন্য এই দলের হয়ে ক্যারিয়ারের শেষ গোলটি করা একটি স্বপ্নের মতো ব্যাপার। মৌসুম শুরুর আগে গত আগস্টে সমুদ্রসৈকতে আয়োজিত এক জমকালো অনুষ্ঠানে সমর্থকদের সামনে রোনালদিনহোকে হাজির করেছিল রাভেন্না। সে সময় ক্লাবটির বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ‘মায়ামির ঘোষণা থেকে মারিনা দি রাভেন্নার সৈকতে সমর্থকদের উষ্ণ অভ্যর্থনা পর্যন্ত—উত্তেজনা, কৌতূহলের মিশ্রণে মানুষের প্রত্যাশা বেড়েই চলেছে।’

ইতালিতে এটি হবে রোনালদিনহোর দ্বিতীয় অধ্যায়। ২০০৮ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত তিনি মিলানে খেলেছেন। তার আগে বার্সেলোনায় ক্যারিয়ারের স্বর্ণযুগ অতিবাহিত করেন তিনি। সেই সময়েই বিশ্বসেরা ফুটবলার হিসেবে ২০০৫ সালে ব্যালন ডি’অর জয় করেন। ২০০৩ সালে পিএসজি থেকে বার্সেলোনায় যোগ দিয়েছিলেন তিনি।

অবিশ্বাস্য কারিকুরি এবং চোখধাঁধানো খেলার শৈলীর জন্য সমর্থকদের কাছে রোনালদিনহোর এক আলাদা আবেদন ছিল। সেই বিশেষত্বের কথা স্মরণ করে রাভেন্নার বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘কিছু ফুটবলারকে স্মরণ করা হয় তাঁরা কী জয় করেছেন সে জন্য, আর কিছু খেলোয়াড়কে স্মরণ করা হয় তাঁরা মানুষকে কেমন অনুভূতি দিয়েছেন তার জন্য। রোনালদিনিও সেই বিরল চ্যাম্পিয়নদের একজন, যিনি ফুটবলকে নিখাদ আনন্দে রূপ দিতে সক্ষম। সেটা হয়তো অপ্রত্যাশিত কোনো মুভ কিংবা সৃষ্টিশীল মুহূর্ত তৈরি করে। তার হাসি স্টেডিয়াম থেকে স্টেডিয়াম এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে সেতুবন্ধ তৈরি করেছে।’

ইতালিয়ান সিরি সি-তে মোট ৬০টি ক্লাব অংশ নেয়। তিনটি গ্রুপে বিভক্ত এই লিগের প্রতিটিতে ২০টি করে ক্লাব রয়েছে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ‘বি’ গ্রুপে (মধ্য ইতালি) রয়েছে রাভেন্না। ১০ ম্যাচে ২০ পয়েন্ট সংগ্রহ করে বর্তমানে এই গ্রুপে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে তারা। শীর্ষে থাকা স্পেৎজিয়ার চেয়ে তারা ৮ পয়েন্ট পিছিয়ে। ফোরলির বিপক্ষে এই হাই-ভোল্টেজ ডার্বি ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে রাভেন্নার নিজস্ব মাঠ ব্রুনো বেনেলিতে।