বাংলাদেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনে এক অনন্য অর্জন। ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অব সাউথ এশিয়া টরন্টো (আইএফএফএসএ) ২০২৬-এ সেরা অভিনেতা (আন্তর্জাতিক ফিচার) পুরস্কার জয় করেছেন অভিনেত্রী জাইনীন করিম চৌধুরী। রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত এবং খনা টকিজ প্রযোজিত চলচ্চিত্র ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’-এ কেন্দ্রীয় চরিত্রে অসাধারণ অভিনয়ের জন্য তিনি এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করেন।
গত ৮ থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত কানাডার টরন্টোতে এই চলচ্চিত্র উৎসবটি অনুষ্ঠিত হয়। উল্লেখ্য যে, আইএফএফএসএ মূলত সাউথ এশিয়ান স্ক্রিন কাউন্সিল অব কানাডার (এসএএসসি কানাডা)-এর একটি অংশ, যা বর্তমানে উত্তর আমেরিকায় দক্ষিণ এশীয় চলচ্চিত্রের সবচেয়ে বড় ও প্রভাবশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পরিচিত।
‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ চলচ্চিত্রে জাইনীন এমন একজন নারীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যার ভেতরে এক ধরণের অস্বস্তি ক্রমশ দানা বাঁধতে থাকে। যখন পরিবারের প্রত্যাশা, ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষা এবং নিজের শরীরের ওপর অধিকারের লড়াই শুরু হয়, তখন সেই দ্বন্দ্বের মুখোমুখি দাঁড়ায় ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্রটি।
জাইনীনের অভিনয়ের নির্ভীকতা এবং শারীরিক তীব্রতাকে বিশেষভাবে মূল্যায়ন করেছেন আইএফএফএসএর বিচারক প্যানেল। তাঁর অভিনয়ের মাধ্যমে অসহায়ত্ব, চাপা ক্ষোভ এবং প্রতিবাদের যে সহজ ও সাবলীল বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে, তার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন তাঁরা। বিচারকদের মতে, “নারীত্ব, দমন ও প্রতিরোধ নিয়ে ছবিটির অনুসন্ধানকে ধরে রেখেছে তাঁর অভিনয়ই।”
এর আগে এই চলচ্চিত্রটি বিশ্বের বেশ কিছু মর্যাদাপূর্ণ উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব, বিএফআই লন্ডন চলচ্চিত্র উৎসব এবং টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব।
গল্পের কথা বললে, ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ চলচ্চিত্রের কাহিনী আবর্তিত হয়েছে ঢাকার একটি ঐতিহ্যবাহী বিউটি পার্লারকে কেন্দ্র করে। পরিবারের পক্ষ থেকে একের পর এক সাজসজ্জা এবং পরিবর্তনের যে চাপ দেওয়া হয়, তাতে বিরক্ত হয়ে ওঠে এক হবু কনে। এক পর্যায়ে তার শরীরেই যেন জন্ম নেয় এক নীরব প্রতিরোধ।
চলচ্চিত্রটিতে জাইনীন চৌধুরী করিম ছাড়াও অভিনয় করেছেন রিকিতা নন্দিনী শিমু, সুনেরাহ্ বিনতে কামাল, আজমেরী হক বাঁধন, দামের খান, শতাব্দী ওয়াদুদ, সাবেরী আলম এবং মোহাম্মদ বারী।
এই আন্তর্জাতিক মানের চলচ্চিত্রটি নির্মাণে সহায়তা প্রদান করেছে কাউন্সিল অব ইউরোপের ইউরিমাজ; ফ্রান্সের সিএনসি বা সঁত্র নাসিওনাল দু সিনেমা এ দ্য লিমাজ আনিমে-এর এদ ও সিনেমা দু মন্দ; পর্তুগালের ইনস্টিটুতো দু সিনেমা এ দু অডিওভিজুয়াল; ইতালির ফোন্দাৎসিওনে প্রাদা ফিল্ম ফান্ড; নরওয়ের সোরফন্ড এবং জার্মানির ওয়ার্ল্ড সিনেমা ফান্ড।