গত সপ্তাহ থেকেই ভাইরাসজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন ভিনসেন্ট কোম্পানি। এর প্রভাবে চ্যাম্পিয়নস লিগে আর্সেনালের বিপক্ষে ম্যাচের আগের সংবাদ সম্মেলন এবং শেষ অনুশীলন সেশনে অংশ নিতে পারেননি তিনি। যদিও বুধবার ম্যাচের দিন ডাগআউটে তাঁকে দেখা গিয়েছিল, তবে বায়ার্ন মিউনিখের এই কোচ যে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠেননি, তা আজ স্পষ্ট হয়ে গেল। মিউনিখে অনুশীলনের সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়।

৪০ বছর বয়সী এই বেলজিয়ান কোচ আজ বায়ার্নের দ্বিতীয় দলের অনুশীলন পর্যবেক্ষণ করছিলেন। সেই মুহূর্তেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে জরুরি চিকিৎসকের সহায়তায় তাঁকে মিউনিখের একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। জার্মান সংবাদমাধ্যম স্কাই স্পোর্টস সূত্রে জানা গেছে, কোম্পানির শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল। তবে বায়ার্ন মিউনিখের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তাঁর বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বায়ার্ন মিউনিখ জানিয়েছে, কোম্পানিকে হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। আপাতত চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে থাকবেন তিনি। ক্লাবের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘শুক্রবার এফসি বায়ার্নের দ্বিতীয় দলের অনুশীলন চলাকালে অসুস্থ হয়ে পড়ায় ভিনসেন্ট কোম্পানির চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। প্রথম দলের কোচ হিসেবে তিনি দ্বিতীয় দলের অনুশীলন দেখছিলেন। হাসপাতালে তাঁর বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে এবং তিনি চিকিৎসাধীন থাকবেন।’

বায়ার্নের ক্রীড়া বিভাগের বোর্ড সদস্য ম্যাক্স এবার্ল জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে কোম্পানির সুস্থতাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘কোম্পানি প্রয়োজনীয় সব চিকিৎসা ও সহায়তা পাচ্ছেন। সুস্থ হতে তাঁর যতটা সময় প্রয়োজন, তাঁকে সেই সময় দেওয়া হবে। তাঁর কোচিং স্টাফের ওপর আমাদের পূর্ণ আস্থা আছে। বায়ার্নের সবাই ভিনিকে দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার শুভকামনা জানাচ্ছে।’

এর আগে মঙ্গলবার আর্সেনালের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে কোম্পানির পরিবর্তে কথা বলেন তাঁর সহকারী অ্যারন ড্যাঙ্কস। সেই সময় ড্যাঙ্কস জানিয়েছিলেন, কোম্পানির জন্য বিশ্রাম নেওয়া অত্যন্ত জরুরি এবং তাঁর পায়েও ব্যথা হচ্ছিল।

তবে বুধবার আর্সেনালের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচে ডাগআউটে উপস্থিত ছিলেন কোম্পানি। অসুস্থতা প্রসঙ্গে ম্যাচের আগে তিনি বলেছিলেন, ‘কোচ হিসেবে আপনি সব সময় সবকিছু করতে চান, সবকিছুর দেখভাল করতে চান। গত সপ্তাহে বেশ খারাপ একটি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলাম। এরপরও শরীরের কথা শুনিনি। একপর্যায়ে শরীরই বলে দিয়েছে, এবার থামো।’

উল্লেখ্য, ম্যানচেস্টার সিটির সাবেক এই ডিফেন্ডার ২০২৪ সালে বায়ার্ন মিউনিখের প্রধান কোচের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর নির্দেশনায় জার্মান ক্লাবটি প্রথম দুই মৌসুমেই বুন্দেসলিগার শিরোপা জয় করতে সক্ষম হয়েছে।