বলিউড সুপারস্টার অমিতাভ বচ্চনের মুম্বাইয়ের জুহুর এলাকায় অবস্থিত বিখ্যাত বাংলো ‘জলসা’ উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। একই ই-মেইলে জনপ্রিয় গায়ক দিলজিৎ দোসাঞ্জের মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া কনসার্টেও বোমা হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। আজ সকালে মুম্বাইয়ের মেয়র ঋতু তাওড়ে এবং প্রশাসনের অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কাছে একটি ই-মেইল পাঠানো হয়, যা নিয়ে পুলিশ ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে। আগামী ২৭ নভেম্বর মুম্বাইয়ের মহালক্ষ্মী রেসকোর্সে দিলজিতের কনসার্ট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। হুমকির ই-মেইলে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ওই নির্দিষ্ট দিনে সেখানে বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হবে।
ই-মেইলে কী বলা হয়েছে
আজ শুক্রবার বেলা ১১টা ৩১ মিনিটে পাঠানো ওই ই-মেইলে কেবল তারকাদের কথা নয়, বরং মুম্বাইয়ের মেয়রের কার্যালয়েও বোমা বিস্ফোরণের হুমকি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গত ৩১ অক্টোবর শহরের একটি স্কুলে গ্রেনেড হামলার ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ই-মেইলে খালিস্তানপন্থী স্লোগানও দেওয়া ছিল বলে জানা গেছে। এই বিষয়ে মুম্বাই পুলিশের জোন-১-এর উপকমিশনার মনীশ কালওয়ানিয়া জানিয়েছেন, বৃহন্মুম্বাই পৌর করপোরেশনের (বিএমসি) কার্যালয়ে একটি হুমকিমূলক ই-মেইল এসেছিল। তবে সতর্কতামূলক তল্লাশি চালানোর পর সেখানে সন্দেহজনক কোনো বস্তু পাওয়া যায়নি। তিনি আরও জানান, দাদর এলাকার কয়েকটি স্কুলেও এই ধরনের হুমকি দেওয়া হয়েছে।
আগেও এসেছিল হুমকির ই-মেইল
পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই প্রথম নয়, এর আগেও একই ধরনের হুমকিমূলক ই-মেইল পাঠিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছে। গত ২০ মার্চ মুম্বাই প্রেসক্লাবে একটি ই-মেইল পাঠানো হয়েছিল। সেখানে দাবি করা হয়, ভবনের ভেতরে বিষাক্ত গ্যাসভর্তি একাধিক ছোট বোমা রাখা হয়েছে, যেগুলো বেলা একটায় বিস্ফোরিত হবে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ‘নিরজা আজমল খান’ নাম ব্যবহার করে ওই ই-মেইলটি পাঠানো হয়েছিল। প্রেরকের দাবি ছিল, প্রেসক্লাব ভবনে বিষাক্ত গ্যাসভর্তি ৪২টি যন্ত্র বসানো হয়েছে। ভবনটি দ্রুত খালি করার আহ্বান জানিয়ে ই-মেইলে বলা হয়, এসব যন্ত্রের উদ্দেশ্য শুধু সম্পত্তির ক্ষতি করা।
সেই ই-মেইলে তামিলনাড়ুর রাজনীতি নিয়েও নানা অভিযোগ তোলা হয়েছিল। উদয়নিধি ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে ভোটব্যাংক হিসেবে ব্যবহার করার অভিযোগ করেন প্রেরক। ডিএমকেকে সমর্থন করা নেতাদের বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইনে (ইউএপিএ) গ্রেপ্তারের অভিযোগও তোলা হয়। প্রেরকের আরও দাবি ছিল, বিষয়টি প্রকাশ্যে আনার চেষ্টায় তামিলনাড়ুর সংবাদমাধ্যমের বাধা পেয়ে তাঁরা অন্য রাজ্যে এসেছিলেন।