পর্দার বিশেষ কিছু আইটেম গানে তাঁর নাচ দর্শককে মুগ্ধ করেছে, সম্প্রতি টক শো সঞ্চালনার মাধ্যমে নিজেকে নতুনভাবে উপস্থাপন করেছেন। কাজের পরিধি খুব বেশি বিস্তৃত না হলেও, অন্য অনেক তারকা compared to তাঁর চেয়ে কম জনপ্রিয় নন মালাইকা। বরং বছরজুড়েই তিনি থাকেন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। কখনো তাঁর ফিটনেস নিয়ে কথা হয়, আবার কখনো সম্পর্কের গুঞ্জন তাঁকে ঘিরে ধরে। আজ ২৩ অক্টোবর মালাইকা অরোরার জন্মদিন। ৫৩ বছর বয়সে দাঁড়িয়েও সামাজিক মাধ্যমে তিনি এক আলোচিত ব্যক্তিত্ব।

নাচের কয়েক মিনিটের ঝলকই মালাইকার জনপ্রিয়তার মূল ভিত্তি। তবে তাঁর এই যাত্রার শুরু হয়েছিল মডেলিংয়ের হাত ধরে। মাত্র ১৭ বছর বয়সে মডেল হিসেবে পেশাগত জীবন শুরু করেন তিনি। পরবর্তীতে ভারতের এমটিভিতে ভিডিও জকি বা ভিজে হিসেবে কাজ করে পরিচিতি পান। বিশেষ করে ‘লাভ লাইন’ ও ‘স্টাইল চেক’-এর মতো অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করে তরুণ প্রজন্মের দর্শকদের মনে জায়গা করে নেন তিনি। এরপর তিনি বিজ্ঞাপন, ফ্যাশন এবং চলচ্চিত্রের গানের জগতে প্রবেশ করেন।

১৯৯৮ সালে মণি রত্নম পরিচালিত ‘দিল সে’ চলচ্চিত্রের ‘ছাইয়াঁ ছাইয়াঁ’ গানে শাহরুখ খানের সঙ্গে ট্রেনের ছাদে তাঁর নাচ তাঁকে রাতারাতি বিপুল পরিচিতি এনে দেয়। গানটি কেবল ছবির একটি জনপ্রিয় অংশ হিসেবেই নয়, বরং বলিউডের সর্বকালের স্মরণীয় নাচের দৃশ্যগুলোর তালিকায় স্থান করে নিয়েছে।

পরবর্তীতে ‘কাঁটে’ ছবির ‘মাহি ভে’, ‘ওয়েলকাম’ ছবির ‘হোঠ রসিলে’, ‘দাবাং’ ছবির ‘মুন্নি বদনাম হুই’ এবং ‘হাউসফুল ২’ ছবির ‘আনারকলি ডিসকো চালি’—একের পর এক জনপ্রিয় গানের মাধ্যমে নিজের এক স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করেন মালাইকা। বিশেষ করে ২০১০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘দাবাং’ ছবির ‘মুন্নি বদনাম হুই’ গানটি ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। সালমান খানের সঙ্গে এই গানে তাঁর উপস্থিতি তাঁকে নতুন প্রজন্মের দর্শকদের কাছে আরও জনপ্রিয় করে তোলে। মূলত তাঁর নাচের দক্ষতা, পর্দায় আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি এবং সাবলীল অভিব্যক্তিই তাঁকে বলিউডের অন্যতম সেরা আইটেম ড্যান্সার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

সিনেমাতে নিয়মিত অভিনয় না করেও কীভাবে আলোচনায় টিকে আছেন মালাইকা? তাঁর ক্যারিয়ারের বিশেষত্ব হলো বহুমুখিতা। তিনি নিজেকে কেবল একটি পরিচয়ে সীমাবদ্ধ রাখেননি। মডেলিং ও উপস্থাপনার পর নাচ, টেলিভিশন শো, ফ্যাশন এবং ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে তাঁর পদচারণা লক্ষ্য করা যায়। ‘নাচ বালিয়ে’ এবং ‘ঝলক দিখলা’র মতো জনপ্রিয় নাচের রিয়েলিটি শোতে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। এর ফলে চলচ্চিত্রে নিয়মিত অভিনয় না করেও টেলিভিশনের দর্শকদের সঙ্গে তাঁর নিবিড় যোগাযোগ বজায় থাকে।

২০২২ সালে ‘মুভিং ইন উইথ মালাইকা’ নামক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি নিজের জীবন, কাজ এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার নানা দিক তুলে ধরেন। এই অনুষ্ঠানটি দর্শকদের সামনে পর্দার বাইরের মালাইকাকে পরিচিত করার সুযোগ করে দেয়।

২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য প্রিন্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মালাইকা নিজের ক্যারিয়ারকে বিভিন্ন কাজের এক সমন্বয় হিসেবে বর্ণনা করেন। মডেলিং থেকে টেলিভিশন, অভিনয়, নাচ ও ব্যবসা—সব মিলিয়েই তিনি নিজের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় গড়তে চান। এছাড়া মুম্বাইয়ে ছেলে আরহান খানের সঙ্গে রেস্তোরাঁ ব্যবসা ‘স্কারলেট হাউস’ নিয়েও তিনি কাজ করছেন।

পঞ্চাশোর্ধ্ব বয়সেও মালাইকার ফিটনেস ও শরীরচর্চার প্রতি আগ্রহ অপরিসীম। তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাতায় প্রায়ই যোগব্যায়াম এবং জিমে শরীরচর্চার মুহূর্তগুলো দেখা যায়। বয়সের সাথে তাল মিলিয়ে শরীরের যত্ন নেওয়ার বিষয়টি কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেই আলোচনায় বারবার তাঁর নাম উঠে আসে। মালাইকার কাছে ফিটনেস কেবল বাহ্যিক সৌন্দর্যের বিষয় নয়, বরং এটি নিজের প্রতি যত্ন নেওয়ার একটি অংশ। দীর্ঘদিনের শরীরচর্চার অভ্যাসের কারণেই ফিটনেসপ্রেমীদের কাছে তিনি এক অনুপ্রেরণা।

বয়স নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলা আলোচনা ও সমালোচনার কড়া জবাব দিয়েছেন তিনি। ২০২৫ সালে নিজের ৫০তম জন্মদিনের ছবি প্রকাশ করে বয়স নিয়ে চলা সব জল্পনার অবসান ঘটান। এরপর ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে, ৫২ বছর বয়সেও বিশেষ গানে নাচতে পেরে গর্ব প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর মতে, নাচ তাঁর কাছে আত্মপ্রকাশের একটি মাধ্যম; আর এ জন্য তিনি কারো কাছে ক্ষমা চাওয়ার প্রয়োজন মনে করেন না।

মালাইকার ব্যক্তিগত জীবন ভক্তদের কাছে বরাবরই কৌতূহলের বিষয়। ১৯৯৮ সালে অভিনেতা ও প্রযোজক আরবাজ খানকে বিয়ে করেন তিনি। একটি কফির বিজ্ঞাপনের শুটিংয়ে তাঁদের প্রথম পরিচয় হয়েছিল। ২০০২ সালে তাঁদের পুত্র আরহান খানের জন্ম হয়। দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের পর ২০১৬ সালে তাঁরা আলাদা থাকার সিদ্ধান্ত নেন এবং ২০১৭ সালে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ সম্পন্ন হয়।

আরবাজের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর অভিনেতা অর্জুন কাপুরের সঙ্গে মালাইকার সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা চলে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে একসঙ্গে উপস্থিতি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি প্রকাশের পর এই সম্পর্কের গুঞ্জন তীব্র হয়, যা পরবর্তীতে প্রকাশ্যেই পরিচিতি পায়। তবে তাঁদের বয়সের ব্যবধান এবং ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নানা মন্তব্য দেখা গেছে। ২০২৪ সালে অর্জুন কাপুর জনসমক্ষে নিজেকে অবিবাহিত বলে উল্লেখ করার পর তাঁদের সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার খবর জোরালো হয়। ২০২৫ সালে হিন্দুস্তান টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মালাইকা বলেন, “তাঁর পেশা, পোশাক ও সম্পর্ক—সবকিছু নিয়েই তাঁকে বিচার করা হয়েছে।” তিনি আরও জানান, একসময় অন্যদের কাছে নিজের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দেওয়া বন্ধ করে তিনি স্বস্তি পেয়েছেন।

পোশাক, বয়স, নাচ কিংবা সম্পর্ক—প্রায় প্রতিটি বিষয় নিয়েই মালাইকাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার সম্মুখীন হতে হয়েছে। বিশেষ করে আইটেম গানে তাঁর উপস্থিতি নিয়ে যেমন প্রশংসা এসেছে, তেমনি এসেছে তীব্র সমালোচনা। তবে এসব নেতিবাচক মন্তব্যের কারণে তিনি নিজের পছন্দের কাজ থেকে সরে আসার পক্ষপাতী নন।

২০২৬ সালের জানুয়ারিতে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিশেষ গানে নাচ নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন মালাইকা। তাঁর মতে, নাচ একটি শিল্পমাধ্যম, যার মাধ্যমে একজন শিল্পী নিজেকে প্রকাশ করতে পারেন। তাই দর্শকের সমালোচনার ভয়ে নিজের পরিচয় বদলে ফেলার কোনো প্রয়োজন নেই।