বাংলাদেশের প্রবীণ কূটনীতিক, সাংবাদিক এবং মানবাধিকারকর্মী রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী ওয়াশিংটনভিত্তিক বিশিষ্ট গবেষণা প্রতিষ্ঠান সাউথ এশিয়া ফোরসাইট নেটওয়ার্কের (এসএএফএন) সম্মানসূচক সিনিয়র ফেলো হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন।
গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে এক আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় এই নিয়োগের কথা জানানো হয়।
দ্য মিলেনিয়াম প্রজেক্টের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এসএএফএন মূলত দক্ষিণ এশিয়ার ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ এবং নীতিনির্ধারণী বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গবেষণা ও সংলাপের আয়োজন করে থাকে।
নিয়োগের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির ঘোষণায় রাষ্ট্রদূত আনসারীর জনসেবা, গণমাধ্যম এবং কূটনীতিতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয় যে, তার এই সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা ওয়াশিংটনে প্রতিষ্ঠানটির আলোচনা এবং বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের গবেষক এবং বৃহত্তর পাঠকসমাজ তার গভীর চিন্তা ও বিশ্লেষণ থেকে বিশেষভাবে উপকৃত হতে পারবেন।
নতুন এই দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে আনসারী এখন থেকে নীতিবিষয়ক সংলাপ এবং গবেষণামূলক কাজে অবদান রাখবেন। ওয়াশিংটনে এসএএফএনের যোগাযোগ ও অংশগ্রহণ সম্প্রসারণের পাশাপাশি বাংলাদেশে এই নেটওয়ার্কটির গবেষণা ও অন্যান্য কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে তিনি সক্রিয় সহযোগিতা করবেন।
জনসেবা, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং গণমাধ্যম খাতের দুই দশকেরও বেশি অভিজ্ঞতাসম্পন্ন মুশফিকুল ফজল আনসারী বর্তমানে রাষ্ট্রদূত হিসেবে সিনিয়র সচিব পদমর্যাদায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত রয়েছেন। এর আগে তিনি মেক্সিকোতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই সঙ্গে কোস্টারিকা, গুয়াতেমালা, ইকুয়েডর ও হন্ডুরাসে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে সমবর্তী দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
কূটনৈতিক অঙ্গনে আসার আগে তিনি ওয়াশিংটনভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন রাইট টু ফ্রিডমের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক এবং সাউথ এশিয়া পারসপেক্টিভসের নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এছাড়া তিনি হোয়াইট হাউস ও জাতিসংঘের স্থায়ী সংবাদদাতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী মহলে সাংবাদিক হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।
এসএএফএনের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য সিনিয়র ফেলোদের মধ্যে রয়েছেন জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির সাবেক নির্বাহী পরিচালক ও নরওয়ের সাবেক পরিবেশমন্ত্রী রাষ্ট্রদূত এরিক সোলহেইম, থাইল্যান্ডের অর্থনীতিবিদ ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক ড. ক্রিয়েংসাক চারোয়েনওংসাক, শ্রীলঙ্কার সাবেক বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল গগন বুলাথসিংহলা, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. রীনা মারওয়াহ, পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত অধ্যয়নবিষয়ক গবেষক ড. সালমা মালিক, চীনের ঝেজিয়াং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ঝৌ ঝাংগুই, মালদ্বীপের কূটনীতিক রাষ্ট্রদূত ওমর আবদুল রাজ্জাক এবং জলবায়ু ও আন্তঃসীমান্ত নদীবিষয়ক গবেষক ড. উত্তম কুমার সিনহা।
উল্লেখ্য যে, এসএএফএনের বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের প্রেসিডেন্ট মেজর জেনারেল (অব.) এ এন এম মুনীরুজ্জামান।