শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলায় একটি প্লাস্টিকের ড্রামের ভেতর থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত পরিচয় নারীর মরদেহের রহস্য উন্মোচনে সাফল্য পেয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। বায়োমেট্রিক প্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ ওই নারীর পরিচয় শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে উপজেলার কুড়িকাহনিয়া বাজার এলাকার কুটেমনি ব্রিজের নিচে খালের পানিতে একটি নীল রঙের প্লাস্টিকের ড্রাম ভাসমান অবস্থায় দেখা যায়। ড্রামটি দেখে স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে সন্দেহের উদ্রেক হয়। তারা দ্রুত গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে বিষয়টি শ্রীবরদী থানা পুলিশকে অবহিত করেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ড্রামটি খোলে এবং ভেতর থেকে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া মরদেহের গলায় কাপড় পেঁচানো ছিল। এছাড়া ওই নারীর কপাল ও মুখে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে, যা ঘটনার নৃশংসতাকে নির্দেশ করে। মরদেহটি উদ্ধারের পর পরিচয় শনাক্ত করার জন্য পিবিআই তদন্ত শুরু করে। বায়োমেট্রিক ডিভাইসের মাধ্যমে অনুসন্ধান চালিয়ে পুলিশ জানতে পারে, নিহত নারীর নাম ঝিনুক আক্তার (২৮)। তিনি গাজীপুরের টঙ্গী পূর্ব থানার এরশাদ নগর এলাকার শাকিল ও বেবী দম্পতির কন্যা। তবে পুলিশ জানিয়েছে, শনাক্ত হওয়া ঠিকানায় গিয়ে খোঁজ চালালেও সেখানে স্বজনদের কাউকে পাওয়া যায়নি।

তদন্তকারী কর্মকর্তাদের ধারণা, পরিকল্পিতভাবে কাউকে হত্যা করে রাতের অন্ধকারে মরদেহটি ড্রামে ভরে এখানে ফেলে যাওয়া হয়েছে।

ঘটনা প্রসঙ্গে শেরপুর ও জামালপুর জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত পিবিআই পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড বলে মনে হচ্ছে। মরদেহের পরিচয়সংক্রান্ত একটি ঠিকানা পাওয়া গেছে। তবে, ওই ঠিকানায় গিয়ে সংশ্লিষ্ট কাউকে পাওয়া যায়নি। দ্রুতই নিহত নারীর স্বজনদের পরিচয় ও তাদের সন্ধান পাওয়া যাবে।”

অন্যদিকে, শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান ভূঁঞা মুক্তকণ্ঠকে জানান, “মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলছে।”