জনপ্রিয় প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপিতে (PHP) এক মারাত্মক নিরাপত্তাত্রুটি ধরা পড়ায় বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে হ্যাকাররা বিভিন্ন ওয়েবসাইটে সাইবার হামলা শুরু করায় সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে অনেক দেশের সরকারি সংস্থা তাদের ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে।

পিএইচপি ডেভেলপারদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইন্টারনেটের একটি বিশাল অংশ এই প্রোগ্রামিং ভাষার মাধ্যমে পরিচালিত হয়, যার ফলে লাখ লাখ ওয়েবসাইট এখন বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে রয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় এবং ত্রুটিগুলো দূর করতে দ্রুত নতুন সংস্করণ উন্মুক্ত করা হয়েছে।

বিশেষ করে পিএইচপি ৫-এর পরবর্তী সকল সংস্করণ এই ত্রুটির ঝুঁকিতে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতি বিবেচনায় ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া, জাপান এবং যুক্তরাজ্যের সাইবার নিরাপত্তা সংস্থাগুলো অবিলম্বে পিএইচপি হালনাগাদ করার অথবা প্রয়োজনীয় প্যাচ প্রয়োগ না করা পর্যন্ত ওয়েবসাইট বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। ইতিমধ্যে ঝুঁকি এড়াতে নেদারল্যান্ডস ও ফিনল্যান্ডের সরকারি সংস্থাগুলো তাদের ওয়েবসাইটগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে।

ওয়েব প্রযুক্তি জরিপ প্ল্যাটফর্ম ডব্লিউথ্রিটেকসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যেসব ওয়েবসাইটের প্রোগ্রামিং ভাষা শনাক্ত করা সম্ভব, তাদের প্রায় ৭৫ শতাংশই পিএইচপি দিয়ে পরিচালিত। এছাড়া ব্লগ, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট এবং সরকারি পোর্টালের প্রায় ৪৩ শতাংশ চলে ওয়ার্ডপ্রেসের মাধ্যমে, যার মূল ইঞ্জিন হিসেবে ব্যবহৃত হয় পিএইচপি।

কিং কলেজ লন্ডনের ভিজিটিং সিনিয়র রিসার্চ ফেলো লুকাজ ওলেজনিক জানিয়েছেন, “এই হামলার পরিধি বিশাল এবং এআইয়ের মাধ্যমে ক্ষতিকর আক্রমণ খুব দ্রুত ও বড় পরিসরে হতে পারে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সীমিত প্রযুক্তিগত সম্পদ থাকা ছোট ওয়েবসাইট বা ব্যক্তিপর্যায়ের সাইটগুলোর জন্য এই ঝুঁকি আরও বেশি।

ইতিমধ্যে নেদারল্যান্ডসের রটারডাম বন্দর, সরকারি পোর্টাল ওভারহেড ডট এনএল, জাতীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন কেএনভিবি, পাঁচটি বড় রাজনৈতিক দল এবং বেশ কয়েকটি হাসপাতালের ওয়েবসাইট বন্ধ রাখা হয়েছে। ডেনমার্ক ও ফিনল্যান্ডেও সরকারি নেটওয়ার্ক এবং স্কুল যোগাযোগের প্ল্যাটফর্মগুলো সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে অফলাইন করা হয়েছে। পাশাপাশি ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও স্থানীয় সরকারের প্রশাসনিক ওয়েবসাইটগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে।