সৌদি আরবের রিয়াদে বিমানবন্দরে এক ভয়াবহ হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন বাংলাদেশি ওমরাহযাত্রী মুফতি মো. নাসরুল্লাহ বদরপুরি। এই শোকাবহ ঘটনায় নিহত মুফতি নাসরুল্লাহর শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)।

গত ১০ অক্টোবর সৌদি আরবের রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার শিকার হন বাংলাদেশ থেকে যাওয়া ৪৫ সদস্যের একটি ওমরাহ কাফেলা। এই মর্মান্তিক ঘটনায় বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের পাশাপাশি নিহত হন কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বদরপুরের বাসিন্দা মুফতি নাসরুল্লাহ বদরপুরি (৪৫)। তিনি ওই ওমরাহ কাফেলার দলনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এই হামলায় কাফেলার আরও বেশ কয়েকজন যাত্রী আহত হয়ে পড়েন।

হামলার খবর পাওয়ার পরপরই ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী আক্রান্ত ওমরাহ কাফেলার সদস্যদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করেন। সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশ মিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে দ্রুত সমন্বয় করে আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসার বিষয়ে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেন তিনি। উল্লেখ্য, সে সময় তিনি সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন থাকলেও সার্বক্ষণিকভাবে তাঁদের খোঁজখবর নিয়ে আসছিলেন।

হামলার সময় যাত্রীদের লাগেজ হারিয়ে যাওয়ায় মন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগে তাঁদের আপ্যায়ন এবং নতুন পোশাকের ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়া দ্রুত দেশে ফেরার টিকিট নিশ্চিত করা এবং নিরাপদ প্রত্যাবর্তনে সরকারের পক্ষ থেকে নিয়মিত যোগাযোগ অব্যাহত রাখা হয়।

নিহত মুফতি নাসরুল্লাহ বদরপুরির পরিবারের খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি ১৩ অক্টোবর ধর্মমন্ত্রীর পক্ষ থেকে মাওলানা ইয়াকুব ওসমানীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল নাঙ্গলকোটের বদরপুরে তাঁর বাড়িতে যায়। এই during পরিদর্শনে পরিবারটির প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়। শহীদের মরদেহ দাফন, পরিবারের স্থায়ী আবাসন এবং সন্তানদের শিক্ষার দায়িত্ব পালনে প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। পরিবারের সঙ্গে ফোনালাপে ধর্মমন্ত্রী শহীদের মরদেহ জান্নাতুল বাকিতে দাফন অথবা দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন। পাশাপাশি তিনি ব্যক্তিগতভাবে পরিবারটিকে ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।

হামলার শিকার হওয়া ৪৫ সদস্যের ওমরাহ কাফেলার ৩৩ জন সদস্য গত মঙ্গলবার রাত ১১টা ২০ মিনিটে সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করেন। ধর্মমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় বিমানবন্দরে তাঁদের আনুষ্ঠানিকভাবে অভ্যর্থনা জানানো হয়।

দেশে ফিরে আসা যাত্রীরা জানান, সৌদি আরবের বিমানবন্দরে দুর্ঘটনার পর ধর্মমন্ত্রী সার্বক্ষণিক তাঁদের খোঁজখবর নিয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় সব সংস্থান করেছেন। এমনকি দেশে ফিরিয়ে এনে নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছাতে যানবাহনের সুব্যবস্থা করেছেন তিনি। এই মানবিক সহায়তার জন্য তাঁরা প্রধানমন্ত্রী ও ধর্মমন্ত্রীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।