কবি বলেছেন, ‘জীবন এক যুদ্ধ’। কিন্তু কোন কবি বলেছেন? জানা নেই। এসব ক্ষেত্রে সুবিধা হলো, নিজের কথাকে, কবির কথা বলে চালিয়ে দেওয়া যায়। দিলাম চালিয়ে। যা আছে কপালে।

আসল কথা হলো, জীবনযুদ্ধে কারও ভাঙা জীবন চাঙা হয়ে গেছে। কারও চাঙা জীবন ভাঙা হয়ে গেছে। কার ভাঙা, কার চাঙা, সেটা জানার তরিকা কী? এসব জানতেই মনের মতিগতি মিশিয়ে করা হয়েছে এই জরিপ।

তো এবার মালকোঁচা মেরে ঝাঁপিয়ে পড়ে জরিপে অংশ নিন। আর যাচাই করে নিন জীবনযুদ্ধের কোন স্তরে আপনার অবস্থান।

পরিচিত-অপরিচিত, মৃদু পরিচিত কিংবা কিঞ্চিৎ স্মৃতিবিজড়িত ক্ষমতাসীন ব্যক্তি অথবা অফিসের বসের বিশেষ দিনে আপনি নিচের কোন কাজটি করেন—

(ক) জন্মদিন কিংবা বিবাহবার্ষিকীতে ইনবক্সে শুভেচ্ছা জানান

(খ) ফেসবুকে শুধু শুভেচ্ছা পোস্ট ট্যাগ করে দেন

(গ) প্রশংসা ও স্তুতি করে (তেল মেরে) স্ট্যাটাস দেন

(ঘ) সেই ব্যক্তির সঙ্গে তোলা নিজের ছবিসহ ‘পিও অভিভাবক’, ‘পিও নেতা’ বলে সম্বোধন করে সৎ-যোগ্য তকমা দিয়ে ফেসবুকে দীর্ঘ বয়ান পোস্ট করেন

(ঙ) ওপরের কোনোটিই করেন না

এবার লক্ষ করুন। আপনার জবাব ‘ক’ হলে প্রাপ্ত নম্বর ২। ‘খ’ হলে নম্বর ৩। ‘গ’ জবাব হলে নম্বর ৪। ‘ঘ’ হলে নম্বর ৫। আর ‘ঙ’ জবাব হলে প্রাপ্ত নম্বর ০, মানে শূন্য।

এবার কুসুম কথায় আসি, মানে ফলাফল। সেই সঙ্গে মিলিয়ে নিন আপনার অবস্থান।

ক. ২ নম্বর পেয়ে জীবনযুদ্ধের প্রাথমিক স্তরে আছেন আপনি। হতাশার কিছু নেই। আলো আসবে। আলো না এলে ১২ টাকার বিনিময়ে রসআলো তো আসবে।

খ. ৩ নম্বর পেয়ে আপনি উদীয়মান জীবনযোদ্ধা। ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের মতো আপনি অলরাউন্ডার। আপনার সব পথ খোলা। ঝোপ বুঝে কোপ মারার দক্ষতা আপনার আছে।

গ. ৪ নম্বর পেয়ে আপনি লড়াই-সংগ্রাম অব্যাহত রেখেছেন। আরও ভালো করার তীব্র সম্ভাবনা। শনৈ শনৈ উন্নতির হাতছানি। আপনি তাঁর প্রিয় তালিকায়। অশেষ সুবিধা বিশেষ সময়ে পেয়ে যাবেন।

ঘ. সর্বোচ্চ ৫ নম্বরধারী আপনি সফল জীবনযোদ্ধা। আপনার স্ট্রাইকরেট ভালো। শিগগিরই আর্থিক সুবিধা বা প্রকল্প আপনার প্রাপ্য।

ঙ. আপনার ভবিষ্যৎ অন্ধকার। আপনি আসলে এই গ্রহের প্রাণী না। বাংলা সিনেমার নায়কের মতো সারা জীবন গাধার মতো খেটে যাবেন। পরিচালকের দয়া হলে শেষে সুখের দেখা পাবেন, না হলে তখনো করুণ পরিণতি।

এ ছাড়া ‘ঙ’ ক্রমিক বাদে আপনি যদি ওপরের সব কাজ করে থাকেন, তাহলে আপনি একটা মাল। অন্য লেভেলের ‘জিনিস’ । এমন জিনিস যেন, ওয়ান পিস মেড, কোম্পানি ডেড।

অর্থাৎ ১৪ নম্বরের মধ্যে পূর্ণ ১৪ নম্বর পেয়ে আপনি জীবনযুদ্ধে সবচেয়ে এগিয়ে। আপনি মহান। আপনি কর্মবীর। যেকোনো পরিবর্তিত পরিস্থিতি তৎক্ষণাৎ সামলে নেওয়ার সক্ষমতা আপনার অসাধারণ। বহু বছরের অভ্যাস ও স্লোগান মুখ ফসকে বেরিয়ে গেলেও আপনি কৌশলে বলে দিতে পারেন, জয়.....জিন্দাবাদ ।

সুতরাং আপনাকে ঠেকানোর কেউ নেই। সব ক্ষেত্রে আপনার সাফল্য অনিবার্য। আপনাকে অভিনন্দন।